ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে ঢাকায় আসছেন নেতাকর্মীরা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৪, ২০২৫, ১২:২৬ পিএম
প্রস্তুত তারেক রহমানকে সংবর্ধনার মঞ্চ। ছবি : সংগৃহীত

২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার দেশে ফিরছেন। দেশে প্রত্যাবর্তনের এই মুহূর্তকে ইতিহাসের অংশ হিসেবে দেখতে, বিএনপি নেতাকর্মীরা রাজধানীতে আগমন শুরু করেছেন।

বিএনপি আশাবাদী, তার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ সমাগম করবে। ইতিমধ্যে ৬৩ জেলার নেতাকর্মী এবং সমর্থকরা মঙ্গলবার থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে শুরু করেছেন। বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটে দুপুর ১২টায় হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে তার।

বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কুড়িল বিশ্বরোড সংলগ্ন তিনশ ফিট মঞ্চে প্রথম সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তারেক রহমান। এরপর তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন। এরপর গুলশান অ্যাভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাসায় উঠবেন। একই এলাকার ভাড়া করা বাসা ‘ফিরোজা’তেও খালেদা জিয়া অবস্থান করছেন।

তার সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান এবং মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও বৃহস্পতিবার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। জাইমা রহমান সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, অনেক বছর পর দেশে ফিরছি। দেশে ফেরা মানে আবেগ ও অনুভূতির এক অনন্য সংমিশ্রণ। দেশে ফিরে ইনশাআল্লাহ, আমি দাদুর পাশে থাকতে চাই।

বিশেষ কার্যক্রম এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে বিমানবন্দর আজ (বুধবার) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা দর্শনার্থী ছাড়া অন্যান্য ব্যক্তির প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যাত্রীদের তীব্র যানজট এড়িয়ে সময়মতো বিমানবন্দরে পৌঁছানোর জন্য আগে থেকেই উপস্থিত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার এবং দল দু’পক্ষের যৌথ উদ্যোগে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জনসমাগম শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে প্রিয় নেতাকে শুভেচ্ছা জানানো যাবে, কিন্তু কোনো বিশৃঙ্খলা বা অরাজকতা চলবে না। তারেক রহমানকে মাকে দেখে বাসায় পৌঁছানো পর্যন্ত সবাই শৃঙ্খলার সঙ্গে অবস্থান করবে।

রাজধানীর প্রধান সড়ক, মোড়, অলিগলি এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার ও বিলবোর্ডে নেতার ছবি এবং ‘লিডার আসছে’, ‘হে বিজয়ী বীর, তোমাকে স্বাগত’ লেখা দিয়ে সাজিয়েছেন। পল্টন, কাকরাইল, মোহাম্মদপুর, গুলশান, বনানী, উত্তরা ও বাড্ডাসহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে এই দৃশ্য দেখা গেছে।

তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীতে বৃহৎ স্বাগত মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলের নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

মিছিল পিজি হাসপাতাল বটতলা থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ মোড় হয়ে মৎস্য ভবনে শেষ হয়। বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এতে অংশ নেন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মিছিলে উপস্থিত ছিলেন।

২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওয়ান-ইলেভেন সময় প্রায় ১৮ মাস কারান্তরীণ ছিলেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে যান। ১৭ বছরের নির্বাসনের পর দেশে ফেরার এই মুহূর্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।