ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

‘খালেদা জিয়ার কথা বলতে গেলে আমরা বাকরুদ্ধ হয়ে যাই’

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান। ছবি - সংগৃহীত

বেগম খালেদা জিয়ার কথা বলতে গেলে অনেক সময় আমরা বাকরুদ্ধ হয়ে যাই। তার শূন্যতা ও অবদান স্মরণ করলে কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে। আমরা কীভাবে আমাদের অনুভূতি প্রকাশ করব, সেটাই যেন জানি না বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আইনজীবী অ্যাসোসিয়েশন ও বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশ আয়োজিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত শোকসভায় এ কথা বলেন তিনি।

ড. মঈন খান বলেন, আজকে আপনারা আমাকে যার সম্পর্কে বলার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, তার বিষয়ে বলার যোগ্যতা আমার আছে কি না—তা নিয়েই আমি ভাবছিলাম। বেগম খালেদা জিয়ার বিশাল ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, উদার মানসিকতা এবং বাংলাদেশের মানুষের প্রতি তার অপরিসীম ভালোবাসার কথা বলতে গেলে দিনের পর দিন কথা বলেও শেষ করা যাবে না।

তিনি বলেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ছিল বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। ৯০-এর গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বৈরশাসকের পতনের পর বেগম খালেদা জিয়া আপসহীন নেত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়ে সে সময় অনেকেই সমালোচনা করলেও পরবর্তীতে প্রমাণিত হয়, তার সিদ্ধান্তই ছিল সঠিক। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জনগণ তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, তিনবার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। একটি দিনও তিনি আমাকে কোনো নির্দিষ্ট কাজের নির্দেশ দেননি। সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। এটাই ছিল তার গণতন্ত্রচর্চার প্রকৃত উদাহরণ।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার  বিরুদ্ধে প্রায় ৪৭টি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। একবার আমি তাকে বলেছিলাম, আপনি কেন এসব মামলায় কোর্টে যান? তিনি বলেছিলেন— ওরা অন্যায় করতে পারে, কিন্তু আমি আইনের বাইরে যেতে পারি না। এই কথার মধ্যেই প্রকাশ পায় আইনের প্রতি তার শ্রদ্ধা, নৈতিক দৃঢ়তা এবং রাষ্ট্রনায়ক সুলভ মানসিকতা।