ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

দেশে আমার সব সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে : মির্জা ফখরুল

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১০:৪৫ এএম
সপরিবারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি : সংগৃহীত

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৭৯ বছরে পদার্পণ করেছেন। ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের একটি মুসলিম পরিবারে তার জন্ম। প্রবীণ এই রাজনীতিকের জন্মদিন উপলক্ষে দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে শুভেচ্ছা জানান এবং তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন কামনা করেন।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত ১টা ২২ মিনিটে নিজের ফেসবুক পোস্টে জন্মদিনে পাওয়া শুভেচ্ছার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি লেখেন, জন্মদিনে সবার ভালোবাসায় আমি মুগ্ধ এবং কৃতজ্ঞ।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, রাজনীতিতে আসার সময় তার চোখে ছিল সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন। প্রায় ছয় দশক আগে সেই পথচলা শুরু হয়। স্বাধীনতার পর তিনি শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরি করেছেন, পরে ১৯৮৮ সালে সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।

বিএনপি সরকারের সময় ঠাকুরগাঁওয়ে বাস্তবায়িত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ওই সময় কৃষি, শিক্ষা, অবকাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়নে পরিকল্পিত অগ্রগতি হয়েছিল। কথার উন্নয়ন নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো বদলে দেওয়া হয়।

তিনি জানান, ২০০৫ সালের মার্চে বরেন্দ্র মাল্টিপারপাস ভূগর্ভস্থ সেচ প্রকল্প উদ্বোধনের মাধ্যমে ১ হাজার ৩৩৭টি টিউবওয়েল আধুনিক পাইপলাইন নেটওয়ার্কে যুক্ত করা হয়। এতে পানির অপচয় কমে, কৃষি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং প্রায় ৫০ একর নতুন জমি চাষের আওতায় আসে, যা জেলার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করে।

শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গোবিন্দনগরে ঠাকুরগাঁও টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন এবং ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ভবনের শিলান্যাস উত্তরাঞ্চলে কারিগরি ও প্রকৌশল শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এসব প্রতিষ্ঠান আজ বহু তরুণের কর্মসংস্থানের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের দুই মেয়াদে গ্রামীণ সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ সম্প্রসারণের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ের যোগাযোগ ও জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসে। একই সময়ে সব বেসরকারি স্কুল ও কলেজ এমপিওভুক্ত হওয়ায় শিক্ষক সমাজের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি ফিরে আসে। পাশাপাশি ১ হাজার ২৬০টি গভীর নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটে।

নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল লেখেন, গত ১৭ বছর কেটেছে গণতন্ত্রের আন্দোলনে। এ সময়ে তাকে ১১ বার কারাবরণ করতে হয়েছে। তবে নীতির প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি বলে মন্তব্য করেন।

পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, স্ত্রী রাহাত আরা বেগম তার পাশে থেকে সংসার ও সন্তানদের বড় করেছেন। দুই মেয়েই নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। দেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিয়ে তার স্বপ্নের কথা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকের তরুণেরা আমার সন্তানসম। এ দেশে আমার সব সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।

উল্লেখ্য, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনে বামপন্থি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে যোগ দেন। ২০১৬ সালে তিনি বিএনপির মহাসচিব হন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায় তাকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে।