বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণাকে ঘিরে সংগঠনজুড়ে আলোচনা–সমালোচনা তীব্র হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ বর্তমান কমিটির পর নতুন নেতৃত্বে কারা আসবেন, তা নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও চলছে নানা জল্পনা–কল্পনা। এ প্রেক্ষাপটে সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক (যুগ্ম সম্পাদক পদমর্যাদা) শরীফ প্রধান শুভর নাম।
শরীফ প্রধান শুভ বর্তমানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে রাজপথের রাজনীতিতে সক্রিয়। সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচি, প্রচার কার্যক্রম ও মাঠপর্যায়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি সংগঠনের ভেতরে পরিচিতি পেয়েছেন। দলীয় সূত্র বলছে, দুঃসময়ে সংগঠনের পাশে থাকা এবং ধারাবাহিকভাবে সক্রিয় থাকার কারণে তিনি ইতিমধ্যে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।
সংগঠনের ভেতরে ত্যাগী, পরীক্ষিত ও বিতর্কমুক্ত নেতৃত্ব বাছাইয়ের দাবি জোরালো হয়েছে। এ বাস্তবতায় শরীফ প্রধান শুভর নাম আলোচনায় আসাকে অনেকেই স্বাভাবিক বলে মনে করছেন। নেতাকর্মীদের একাংশের মতে, যারা দীর্ঘদিন মাঠে সক্রিয় থেকেছেন এবং কঠিন সময়ে সংগঠন ছেড়ে যাননি, তাদের মধ্য থেকেই নেতৃত্ব আসা উচিত—এই ধারণার সঙ্গে শুভর অবস্থান সামঞ্জস্যপূর্ণ।
নেতৃত্ব প্রসঙ্গে শরীফ প্রধান শুভ বলেন, খারাপ সময়ে যারা ছাত্রদলকে ছেড়ে যায়নি, তাদের নেতৃত্বে আসা উচিত। তিনি আরও বলেন, পদ–পদবী যদি বড় বিষয় হতো, তাহলে ফ্যাসিবাদের সময়ে ছাত্রদলের রাজনীতি করতাম না।
সাম্প্রতিক ইফতার আয়োজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি নিয়মিত কর্মসূচির অংশ। এর মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংগঠনের সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার মতে, ছাত্রদলের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও প্রত্যাশা আগের তুলনায় বেড়েছে, যা সংগঠনের জন্য ইতিবাচক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মিছিলের বিষয়ে তিনি বলেন, তারেক রহমান দেশের জনগণের জন্য যে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছেন, তাকে স্বাগত জানিয়ে আমরা মিছিল করেছি।
ছাত্ররাজনীতি সম্পর্কে শরীফ প্রধান শুভ বলেন, ছাত্রদল ‘শিক্ষা, ঐক্য ও প্রগতি’ স্লোগান নিয়ে এগিয়ে চলা একটি সংগঠন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলা এবং র্যাগিং–গেস্টরুম–গণরুম সংস্কৃতি বন্ধে সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি বলেন, যারা দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয়, আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন এবং যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই—তাদের মধ্য থেকেই নেতৃত্ব বাছাই করা উচিত। এতে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১ মার্চ রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি ও নাসির উদ্দীন নাসিরকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে ১৫ জুন ২৬০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদিত হয়। চলতি বছরের ১ মার্চ কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এ অবস্থায় সাধারণ সম্পাদক পদে শরীফ প্রধান শুভর নাম আলোচনায় আসা ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে শেষ পর্যন্ত কারা নেতৃত্বে আসবেন, তা নির্ভর করছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর।

