ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাসকে জড়িয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঢাকার আদালতে অনলাইন নিউজ পোর্টাল দৈনিক আজকের কণ্ঠ-এর বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়। মামলায় পোর্টালটির এডমিনসহ অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের আসামি করা হয়েছে।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) ঢাকা অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান ভূইয়া মামলার আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে নির্দেশ দেন।
মামলার বাদী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান ভূইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার আবেদনে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচন আচরণবিধি অনুসরণ করে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। এ সময় নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করা এবং সম্ভাবনাময় প্রার্থীদের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্যে আসামিরা জেনেশুনে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য সত্য হিসেবে উপস্থাপন করে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করছেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়ার সময় ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদির ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানো হয়। এ ঘটনার সঙ্গে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগীদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রকৃত অপরাধী শনাক্তের কাছাকাছি রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
এমন পরিস্থিতিতে দৈনিক আজকের কণ্ঠ এবং সংশ্লিষ্ট সহযোগীরা মির্জা আব্বাসের নির্বাচনি সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে গত ১২ ডিসেম্বর বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে অনলাইন পোর্টালটিতে ‘মির্জা আব্বাসের ক্যাডারদের গুলিতে বিদ্ধ ওসমান হাদি’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে। বাদীপক্ষের দাবি, প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।
মামলায় বলা হয়, মির্জা আব্বাসের ব্যক্তিগত চরিত্র ও নির্বাচনি আচরণ নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
বাদী আরও জানান, তিনি ১২ ডিসেম্বর বিকেল ৪টার দিকে বিএনপির নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থানকালে ওই সংবাদটি দেখতে পান। পরে বিষয়টি আদালতের নজরে আনতেই এই মামলা দায়ের করা হয়।


