শেরপুরে নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে সংঘর্ষ ও শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল রেজাউল করিম নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য।
১১ দলের অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিস্ক্রিয় দর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন। তারা দ্রুত তৎপর হলে ঘটনা এতদূর গড়াত না। দলটি স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রতি উসকানি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছে। পাশাপাশি তারা উপজেলা প্রশাসনের ব্যর্থতা তদন্ত করে দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ঢাকার মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলের পক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় থাকার কথা ছিল। কিন্তু গতকালের ঘটনা সেই পরিবেশকে ম্লান করে দিয়েছে।
রেজাউল করিম ঝিনাইগাতীতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে সংঘর্ষে আহত হন। তাকে প্রথমে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে শেরপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাত সাড়ে ৯টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
নিহত রেজাউল করিম ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক এবং স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন।
সংবাদ সম্মেলনে জুবায়ের আরও বলেন, ঘটনাপ্রবাহে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসনের ব্যর্থতার চিত্র স্পষ্ট। মারামারির সময় পুলিশ তৎপর ছিল না এবং প্রশাসন-সেনা নিষ্ক্রিয় দর্শকের মতো আচরণ করেছে। তবে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করেছে। এ সময় একজন সেনা সদস্য আহত হন।
জুবায়ের বলেন, এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা পুলিশ ও গোটা প্রশাসনের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং প্রমাণ করেছে, নির্বাচন পরিবেশের সুষ্ঠু নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন