ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

দুর্নীতির পাতা বা ডাল নয়, ঘাড় ধরে টান দেব : জামায়াত আমির

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ১১:২৭ এএম
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত

আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ও আপসহীন অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। দুর্নীতির মূলোৎপাটনের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, পাতা বা ডাল নয়, দুর্নীতির ঘাড় ধরে টান দেব ইনশাআল্লাহ।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর এক বৃহৎ নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্নীতির জড় আমরা কেটে দিতে চাই। দুর্নীতির পাতা বা ডাল ধরে টান দেব না; বরং দুর্নীতির ঘাড় ধরে টান দেব ইনশাআল্লাহ। তিনি আরও বলেন, বড় দুর্নীতিবাজ, গডফাদার কিংবা মাফিয়ারা আইনের বাইরে থাকবে আর ছোট অপরাধীরা শাস্তি পাবে, এ ধরনের বৈষম্য জামায়াতে ইসলামী মেনে নেবে না।

চাঁদাবাজি ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহ যদি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেন, তবে দলের কেউ চাঁদাবাজিতে জড়াবে না এবং কাউকেও এতে যুক্ত হতে দেওয়া হবে না।

বিগত সরকারের আমলের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের চিত্র তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে ব্যাংক-বিমা ও বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের নামে জনগণের বিপুল অর্থ লুট হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, যা দেশের একাধিক জাতীয় বাজেটের সমান। তিনি বলেন, এই অর্থ ১৮ কোটি মানুষের সম্পদ এবং তা ফেরত আনার জন্য চূড়ান্ত লড়াই করা হবে।

দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী দেশের অন্যতম নির্যাতিত রাজনৈতিক দল। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে দলের শীর্ষ নেতারা প্রাণ হারিয়েছেন, হাজারো কর্মী নিহত ও পঙ্গু হয়েছেন। দীর্ঘ সময় দলীয় কার্যালয় বন্ধ রাখা এবং দল ও ছাত্রশিবির নিষিদ্ধ করার ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি।

৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর জামায়াত কোনো প্রতিশোধের রাজনীতিতে যাবে না। তবে শহীদ পরিবার ও নির্যাতিতদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং তাদের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা ও মামলা বাণিজ্যের বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন তিনি।

নারীর মর্যাদা ও যুবসমাজের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেকার ভাতা দিয়ে নয়, যুবকদের হাতে সম্মানজনক কাজ তুলে দেওয়া হবে। নারীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার শতভাগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

বরিশাল অঞ্চলের নদীভাঙন সমস্যার কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, নদীশাসনের নামে প্রকল্প লুটপাট নয়, টেকসই নদী সংস্কার প্রয়োজন। সঠিক পরিকল্পনা ও স্বচ্ছ বাস্তবায়ন হলে আগামী এক দশকে এ অঞ্চলের চিত্র বদলে যাবে।

জনসভায় তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য দলীয় বিজয় নয়, বরং ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি থেকে সাধারণ নাগরিক আইনের চোখে সবাই সমান হবে।

সমাবেশে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের জন্য জনগণের সমর্থন ও দোয়া কামনা করা হয়। এতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।