আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সম্ভাব্য কারচুপি, ভয়ভীতি ও অনিয়মের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে ভোটারদের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সচেতনতার সঙ্গে ভোটাধিকার প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ভোট দেওয়ার মধ্য দিয়েই দায়িত্ব শেষ নয়—ভোটের ফলাফল হাতে না পাওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র ত্যাগ করা যাবে না।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের এক বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা জনগণের রায়ের মাধ্যমে পরাজয়ের আশঙ্কা করছে, তারাই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানা কৌশল অবলম্বন করতে পারে। ভয়ভীতি সৃষ্টি, গুজব ছড়ানো এবং মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ভোটারদের নিরুৎসাহিত করার অপচেষ্টা চালানো হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘যারা পরাজয়ের ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত, তারা আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই আপনাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, ভোট দেওয়ার পরেও আপনার ভোট নয়-ছয় হয়ে যেতে পারে। তাই ভোটের রেজাল্ট হাতে না নিয়ে কেউ ফিরবেন না।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। পরপর চারটি জাতীয় নির্বাচনে জনগণ তাদের মতামত স্বাধীনভাবে প্রকাশের সুযোগ পায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন সেই বাস্তবতা পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর মানুষ আশার আলো দেখছে। গ্রাম থেকে শহরে ভোটারদের ঢল নামছে, মানুষের মধ্যে ঈদের মতো আনন্দ ও উৎসাহ বিরাজ করছে। এসবই প্রমাণ করে—জনগণ এবার তাদের মনের মতো সরকার দেখতে চায়।’
একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, নিরপেক্ষতা ও ন্যায়নিষ্ঠতার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করলেই জনগণের আস্থা অর্জন করা সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে, তাহলে জনগণ তাদের আজীবন ভালোবাসা ও সম্মান দেবে। কিন্তু অতীতের মতো কোনো পক্ষপাতমূলক ভূমিকা জনগণ আর দেখতে চায় না।’
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির জানান, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে দেশে দীর্ঘদিনের নির্যাতন, নিপীড়ন ও অবিচারের অবসান ঘটবে। তিনি বলেন, আবরার ফাহাদসহ জুলাই বিপ্লবের সকল শহীদের হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রায় ১৪০০ শহীদ জীবন দিয়ে জাতিকে নতুন জীবন দিয়েছে। তাদের আত্মত্যাগ আমাদের জন্য দায়বদ্ধতা তৈরি করেছে। আমরা সেই দায় থেকে পিছপা হব না।’
ভবিষ্যৎ সরকার গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে সরকার গঠিত হবে, সেটিই হবে নতুন বাংলাদেশের সরকার—একটি জনআকাঙ্ক্ষার সরকার।
তিনি বলেন, ‘এই সরকার হবে কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের সরকার। মুটে-মজুর থেকে শুরু করে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সরকার। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, যুবক-বৃদ্ধ—সবার সরকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই সরকার কোনো দলের হবে না, কোনো গোষ্ঠীর হবে না, কোনো পরিবারের হবে না। এই সরকার হবে জনগণের সরকার।’
নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, জনগণ যদি বলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, তাহলে জামায়াতে ইসলামী তা শ্রদ্ধার সঙ্গে মেনে নেবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারে যাই বা বিরোধী দলে বসি—তা মুখ্য বিষয় নয়। আমরা জনগণের ওপর গভীরভাবে আস্থাশীল এবং বিশ্বাস করি জনগণ সঠিক রায়ই দেবে।’
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন



