ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সারা দেশে সহিংসতা, নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা ও ধর্ষণের প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যভুক্ত দলগুলোর আহ্বানে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করার ঘোষণা দেওয়া হয়, যা উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ পর্যন্ত যাওয়ার কথা রয়েছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে এ কর্মসূচি শুরু হয়।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন: জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ারসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা। এ ছাড়া খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ বিভিন্ন দলের নেতারা অংশ নেন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বক্তব্যে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু সংসদ নির্বাচন নয়, গণভোটও হয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কোনো টালবাহানা চলবে না।
তিনি আরও বলেন, আগামীর বাংলাদেশ চলবে জুলাই সনদের ভিত্তিতে। জনগণ স্বৈরাচার তাড়াতে পেরেছে, সুতরাং সবাইকে সেটা মনে রাখতে হবে।
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, নির্বাচিত দল ভোটের পরদিন থেকেই জুলুম-নিপীড়ন শুরু করেছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ হলেও ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে ২৯৭টির। এর মধ্যে ৭৭টি আসনে জয় পেয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট।
শরিক দলগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। জুলাই আন্দোলনের ছাত্রনেতাদের উদ্যোগে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ছয়টি আসন। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস একটি আসনে জয়লাভ করেছে।

