বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেছেন, চাঁদাবাজি বন্ধ হলে দ্রব্যমূল্য অর্ধেক কমে যাবে। তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধ করতে না পারলে ভর্তুকি দিয়ে হলেও মানুষকে স্বস্তি দিন। তবে এই ভর্তুকি ঋণ করে নয়, সরকারের দলীয় ফান্ড অথবা চাঁদার কমিশন থেকে দিলে জনগণ উপকৃত হবে। তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের যে ঊর্ধ্বগতি, এর জন্য দায়ী সরকারদলীয় ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট এবং দলীয় নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি। চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট বন্ধ করতে পারলে দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে মানুষের দুর্ভোগ বৃদ্ধি পায় এবং দারিদ্র্যের হার বেড়ে যায়।
রোববার (১৫ মার্চ) সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পল্টন থানার উদ্যোগে শান্তিনগর এলাকায় অসহায়-দরিদ্রদের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পল্টন থানা আমির এডভোকেট মারুফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং থানা সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য শাহীন আহমেদ খান। আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক কাউন্সিলর খন্দকার আব্দুর রব, পল্টন থানা সহকারী সেক্রেটারি মুস্তাফিজুর রহমান শাহীন ও এনামুল হক, থানা কর্মপরিষদ সদস্য আ. ফ. ম. ইউসুফ, নজরুল ইসলাম মজুমদার, শামীম হাসনাইন, নুরুল আবসার প্রমুখ।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, জুলাই সনদ শোষণের হাত থেকে মানুষের মুক্তির সনদ। ফ্যাসিবাদমুক্ত, বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। যারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় না, তারা মূলত এ দেশে আবারও ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চায়। শেখ হাসিনার তৈরি সংবিধান রক্ষায় যারা উঠেপড়ে লেগেছে, তারা শেখ হাসিনার মতোই মানুষের ওপর জুলুম করবে এবং দুর্নীতি করবে। যে সংবিধানের দোহাই দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি, সেই সংবিধান মানলে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বৈধ কি না জাতির সামনে তা স্পষ্ট করতে তিনি বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, হাসিনার সংবিধান মানলে ২০২৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে, তার আগ পর্যন্ত হাসিনা প্রধানমন্ত্রী। হাসিনার তৈরি সংবিধান মানলে রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠানে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি প্রদর্শন বাধ্যতামূলক। তিনি আরও বলেন, আপোসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, যেদিন জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে সেদিন হাসিনার সংবিধান ছুড়ে ফেলে দেওয়া হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যদি আপনার সরকারকে জনগণের সরকার মনে করেন, তবে বেগম জিয়ার আকাঙ্ক্ষায় উজ্জীবিত হয়ে জাতির প্রত্যাশা বাস্তবায়নে হাসিনার তৈরি সংবিধান ছুড়ে ফেলে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করুন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে যেকোনো কাজে জামায়াতে ইসলামী সরকারকে সহযোগিতা করবে। তবে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন না হলে জামায়াতে ইসলামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন