ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মগবাজার মোড়ে জামায়াতের লিফলেট বিতরণ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ৯, ২০২৬, ১১:৪৬ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেছে; তাই সরকারকে এ সনদের দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলনসহ শতভাগ বাস্তবায়ন না করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণরায় বাস্তবায়ন করতে বাধ্য করা হবে বলে সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টায় রাজধানীর মগবাজার মোড়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জ্বালানি সংকট নিরসনের দাবিতে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ১১ দল ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মু. আতাউর রহমান সরকার, এবি পার্টির থানা সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার নো ’মান আহমেদী, হাতিরঝিল অঞ্চলের টিম সদস্য ইউসুফ আলী মোল্লা, হাতিরঝিল পূর্ব থানা আমীর জিল্লুর রহমান এবং পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত থানা আমীর নূরুল ইসলাম আকন্দ প্রমুখ।

সেলিম উদ্দিন বলেন, এ সরকারের বয়স হয়েছে মাত্র এক মাস। এত অল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের রাজপথে নামতে হবে তা কখনো চিন্তাও করিনি।

জনগণের প্রত্যাশা ছিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জাতীয় সংসদে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে দেশের সব সমস্যার ন্যায়সঙ্গত ও ইতিবাচক সমাধান করা হবে এবং ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অপশাসন ও দুঃশাসনমুক্ত নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।

কিন্তু দেশের ৭০ শতাংশ জনগণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ঐতিহাসিক রায় প্রদান করলেও পতিতদের আদলে ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার হীন মানসিকতায় তারা গণরায় ছিনতাই করে যা ইচ্ছা তাই করার চেষ্টা করছে।

কিন্তু আত্মসচেতন জনতা সরকারের সে ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই বাস্তবায়ন হতে দেবে না; বরং ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে। তিনি সরকারকে সময় থাকতে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে ইতিবাচক ধারায় ফিরে আসার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী স্বাধীন বিচার বিভাগ ও বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার কথা থাকলেও সরকার সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ বাতিল করে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের আজ্ঞাবাহী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ষড়যন্ত্র পাকাপোক্ত করেছে।

সরকারের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা ষড়যন্ত্রকারীরা জাতিকে যেমন বিভ্রান্ত করছে, ঠিক তেমনিভাবে বিএনপিকেও বিভ্রান্ত করছে। তাই আমরা দেশ ও জাতিসত্ত্বাবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় আজ আন্দোলন শুরু করলাম।

আমাদের এ আন্দোলন সরকারের সঙ্গে কোনো চ্যারিটি ম্যাচ বা মিঠামিঠা হবে না; বরং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এ আন্দোলনকে পরিণতির দিকে এগিয়ে নেওয়া হবে।

তিনি সরকারকে হঠকারিতা পরিহার করে অবিলম্বে গণরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহ্বান জানান। অন্যথায় এ জন্য সরকারকে চরম মূল্য দিতে হবে।