ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ইসলামে সুন্দর সমাজ গঠনে আখলাকের গুরুত্ব ও ফজিলত

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ১০:০৬ এএম
ইসলামে সুন্দর সমাজ গঠনে আখলাকের গুরুত্ব ও ফজিলত। ছবি : সংগৃহীত

ইসলামে ‘আখলাক’ বা সচ্চরিত্রকে ইমানের পূর্ণতা হিসেবে গণ্য করা হয়। ইসলাম কেবল ইবাদত-বন্দেগির নাম নয়, বরং মানুষের আচার-আচরণ ও চরিত্রের উৎকর্ষ সাধনের এক পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। পবিত্র কুরআনে মহানবী (সা.) এর চরিত্রকে ‘মহান চরিত্র, হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে আখলাক বা সচ্চরিত্রের গুরুত্ব অপরিসীম।

আখলাক বা সচ্চরিত্রের ফজিলত
ইসলামী শরিয়তে উত্তম চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তির জন্য বিশেষ মর্যাদার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে:

ইমানের পূর্ণতা: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “মুমিনদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই ইমানের দিক থেকে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর।” (তিরমিজি)।

কিয়ামতে মিজানের পাল্লায় ভারী হবে: আখিরাতে নেক আমল মাপার সময় সচ্চরিত্রের ওজন সবচেয়ে বেশি হবে।

জান্নাত লাভের সহজ মাধ্যম: রাসুল (সা.)-কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কোন জিনিস মানুষকে বেশি জান্নাতে নিয়ে যাবে? তিনি উত্তরে বলেন, “আল্লাহভীতি এবং উত্তম চরিত্র।”

নবীজির সান্নিধ্য লাভ: কিয়ামতের দিন নবীজি (সা.)-এর সবচেয়ে কাছে বসার সুযোগ পাবেন তারা, যাদের চরিত্র পৃথিবীতে সুন্দর ছিল।

চরিত্র বা আখলাক গঠনের উপায়
ব্যক্তি জীবনে সুন্দর চরিত্র গঠন হুট করে সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন নিয়মিত চর্চা ও সাধনা। ইসলামে চরিত্র গঠনের কিছু কার্যকর উপায় হলো:

১. রাসুল (সা.)-এর সীরাত অধ্যয়ন: নবীজি (সা.) ছিলেন চরিত্রের মূর্ত প্রতীক। তাঁর জীবনীর প্রতিটি অধ্যায় থেকে ধৈর্য, ক্ষমা ও সততার শিক্ষা নেওয়া চরিত্র গঠনের প্রধান ধাপ।

২. নফস বা প্রবৃত্তির নিয়ন্ত্রণ: নিজের ভেতরের মন্দ ইচ্ছা, রাগ এবং অহংকার দমন করার নামই হলো নফস জিয়াদ। এটি চরিত্র সংশোধনের অন্যতম হাতিয়ার।

৩. ভালো মানুষের সাহচর্য: সৎ ও আদর্শবান মানুষের সাথে মেলামেশা করলে স্বভাবতই মানুষের মধ্যে ভালো গুণাবলি তৈরি হয়। একে বলা হয় ‘সুহবতে সালেহীন’।

৪. অশ্লীলতা ও পরনিন্দা ত্যাগ: গিবত, শেকায়েত এবং মন্দ কথা থেকে জবানকে হেফাজত করা চরিত্র গঠনের পূর্বশর্ত।

৫. নিয়মিত তাওবা ও দুআ: নিজের অজান্তে হয়ে যাওয়া ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং “হে আল্লাহ, আপনি আমাকে সুন্দর অবয়ব দিয়েছেন, আমার চরিত্রকেও সুন্দর করে দিন”-এই দুআটি নিয়মিত পাঠ করা।

সামাজিক জীবনে আখলাকের প্রভাব
উত্তম চরিত্র কেবল পরকালের মুক্তির পথ নয়, বরং এটি দুনিয়াবি জীবনেও মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা পাওয়ার একমাত্র পথ। বিনয়, আমানতদারি এবং সত্যবাদিতা একজন মানুষকে সমাজে সম্মানিত করে তোলে। মূলত সমাজ থেকে ঘৃণা ও হানাহানি দূর করতে হলে ব্যক্তিগতভাবে আখলাক গঠনের কোনো বিকল্প নেই।

তথ্যসূত্র: বুখারি শরিফ, তিরমিজি এবং রিয়াদুস সালেহীন।