সাধারণত মানুষের ধারণা, সব পাপের বিচার কেবল পরকালেই হবে। কিন্তু পবিত্র কোরআন ও হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, এমন কিছু জঘন্য পাপ রয়েছে যেগুলোর অশুভ পরিণতি বা শাস্তি আল্লাহ তায়ালা পরকালের জন্য জমিয়ে না রেখে এই দুনিয়াতেই শুরু করে দেন। এসব অপরাধ কেবল ব্যক্তির পরকাল নষ্ট করে না, বরং তার ইহকালীন জীবনকেও অশান্তিময় ও লাঞ্ছিত করে তোলে।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, অধিকাংশ পাপের বিচার পরকালে হলেও কিছু সুনির্দিষ্ট অপরাধ রয়েছে যেগুলোর প্রভাব বা শাস্তি আল্লাহ তায়ালা দুনিয়াতেই ভোগ করান।
নিচে এমন কিছু পাপের বিবরণ দেওয়া হলো যেগুলোর শাস্তি দুনিয়াতেই ভোগ করতে হয়:
১. বাবা-মায়ের অবাধ্য হওয়া
মা-বাবার সাথে দুর্ব্যবহার বা তাদের অবাধ্য হওয়া ইসলামে কবিরা গুনাহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "আল্লাহ তায়ালা চাইলে সব গুনাহের শাস্তি কিয়ামত পর্যন্ত স্থগিত রাখতে পারেন, কিন্তু মা-বাবার অবাধ্যতার শাস্তি তিনি মৃত্যু আসার আগেই দুনিয়াতে প্রদান করেন।" (বায়হাকি) যারা মা-বাবাকে কষ্ট দেয়, তারা সাধারণত সন্তান বা অন্য কোনো মাধ্যমে দুনিয়াতেই সেই কষ্টের শিকার হয়।
২. জুলুম বা মানুষের ওপর অত্যাচার
অসহায় মানুষের ওপর অন্যায়ভাবে ক্ষমতার প্রয়োগ বা জুলুম করলে তার সাজা দ্রুত কার্যকর হয়। মাজলুম বা অত্যাচারিতের চোখের পানি আল্লাহর আরশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। হাদিসে এসেছে, আল্লাহ তায়ালা অত্যাচারীকে দীর্ঘ সময় দেন, কিন্তু যখন ধরেন তখন আর ছাড় দেন না। জুলুমের কারণে মানুষের ধন-সম্পদ ও সম্মানে দ্রুত পতন ঘটে।
৩. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা
আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা ইসলামের অন্যতম বিধান। যারা তুচ্ছ কারণে বা অহংকারের বশবর্তী হয়ে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করে, তাদের জীবনে বরকত কমে যায় এবং তারা দুনিয়াতেই নানাবিধ বিপদে পতিত হয়। হাদিস অনুযায়ী, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীর শাস্তি আল্লাহ দুনিয়াতে ত্বরান্বিত করেন।
৪. ব্যভিচার ও অশ্লীলতা
যখন কোনো সমাজে ব্যভিচার ও অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেখানে এমন সব মহামারি বা নতুন নতুন রোগ দেখা দেয় যা আগে কখনো ছিল না। এছাড়া চারিত্রিক স্খলনের কারণে ব্যক্তি তার সামাজিক মর্যাদা হারায় এবং মানসিক অশান্তিতে ভোগে। এটি এমন এক পাপ যার কলঙ্ক ও কুফল দুনিয়াতেই প্রকাশ পেয়ে যায়।
৫. আমানতের খিয়ানত ও মাপে কম দেওয়া
ব্যবসায় ও লেনদেনে সততা বজায় রাখা ইবাদতের অংশ। যারা মানুষের আমানত রক্ষা করে না কিংবা মাপে কম দিয়ে মানুষকে ঠকায়, তাদের ওপর দুর্ভিক্ষ, অভাব-অনটন এবং জালিম শাসকের অত্যাচার চাপিয়ে দেওয়া হয়। অর্থনৈতিক মন্দা ও বরকতহীনতা এই পাপের পার্থিব শাস্তি।
দ্রুত সাজার কারণ: এই অপরাধগুলো সরাসরি সমাজ ও পরিবারের কাঠামোর ওপর আঘাত হানে। সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই আল্লাহ তায়ালা এই পাপগুলোর পার্থিব কুফল বা সাজা দ্রুত কার্যকর করেন যাতে অন্যরা শিক্ষা নিতে পারে।
সংশোধনের সুযোগ: দুনিয়াতে শাস্তি পাওয়া মানেই যে তওবার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া তা নয়। বরং পার্থিব বিপদ অনেক সময় বান্দার জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে আসে যেন সে পাপ ত্যাগ করে সঠিক পথে ফিরে আসে।
হাদিসের উদ্ধৃতি: প্রতিবেদনে ব্যবহৃত তথ্যগুলো বুখারি, মুসলিম ও বায়হাকি শরিফের বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য হাদিসের সারমর্ম থেকে নেওয়া হয়েছে। নিউজের বিশ্বস্ততা বজায় রাখতে এই তথ্যগুলো অত্যন্ত কার্যকর।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন