শীতকালে অজু করতে অলসতা করেন অনেকে। কেউ কেউ কোনো রকমে অজু শেষ করেন। অনেক সময় ঠিকমতো পানি পৌঁছে না অজুর অঙ্গগুলোতে। এভাবেই নামাজ পড়েন ও ইবাদত করেন। অথচ এমন ইবাদত আল্লাহ দরবারে গ্রহণযোগ্য হয় না, সেদিকে কোনো খেয়াল থাকে না। শীতকালে অজু ও ইবাদত গ্রহণযোগ্য করতে কয়েকটি বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
অজুর প্রতিটি অঙ্গ ভালোভাবে ধোয়া
অজুর সময় প্রতিটি অঙ্গ ভালোভাবে ধোয়া উচিত। কোনো অঙ্গ শুকনো থাকল কি না, তা যাচাই করা। মহানবী (সা.) বলেছেন, আমি কি তোমাদেরকে এমন আমলের কথা বলে দিব না, যার মাধ্যমে আল্লাহ পাপরাশি মুছে দিবেন এবং জান্নাতের স্তর উঁচু করে দিবেন? সাহাবাগণ বললেন, অবশ্যই বলুন ইয়া রাসুলাল্লাহ! নবী করিম (সা.) বললেন, ১. কষ্টের ক্ষেত্রে খুব ভালোভাবে অজু করা। ২. অধিক পরিমাণে মসজিদের দিকে গমন করা। ৩. এক নামাজের পর অন্য নামাজের জন্য অপেক্ষা করা। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৫১)
অজুর সময় জামা-শার্ট ইত্যাদির হাতা ভালোভাবে গুটিয়ে নেওয়া
শীতের কারণে হাতা না গুটিয়েই অজু করেন অনেকে। এটি অনুচিত। কারণ, কনুই শুকনো থাকলে অজু হবে না। এ ছাড়া কনুই, টাখনু ইত্যাদির ওপরের অংশ ভালোভাবে ধোয়া মুস্তাহাব।
সহিহ মুসলিমের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, নুআঈম বিন মুজবির রহ. বলেন, আমি আবু হুরায়রা (রা.)-কে অজু করতে দেখলাম। তিনি মুখমণ্ডল ধৌত করলেন। খুব ভালোভাবে ধৌত করলেন। তারপর বাহুর কিছু অংশসহ ডান হাত ধৌত করলেন। তারপর বাহুর কিছু অংশসহ বাঁ হাত ধৌত করলেন। এরপর মাথা মসেহ করলেন। অতপর নলার কিছু অংশসহ ডান পা ধৌত করলেন। অতঃপর নলার কিছু অংশসহ বাঁ পা ধৌত করলেন। এরপর তিনি বললেন, আমি রাসুল (সা.)-কে এভাবে অজু করতে দেখেছি। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৪৬]
পায়ের গোড়ালি ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে
শীতের কারণে অজুর সময় অবহেলায় ঠিকমতো পা ধোয়া হয় না। কোনো রকমে অজু শেষ করেন কেউ। হাদিসে এই বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, ‘আমরা মক্কা থেকে মদিনা ফিরছিলাম। রাস্তায় আমরা পানি পেলে কিছু লোক তাড়াহুড়া শুরু করে দিল। তাড়াহুড়া করে তারা অজু সেরে ফেলল। আমরা পৌঁছে দেখি, তাদের পায়ের গোড়ালি শুকনো। তাতে পানি পৌঁছেনি। নবী করিম (সা.) বললেন, কিছু পায়ের গোড়ালির জন্য জাহান্নামের শাস্তি! তোমরা খুব ভালোভাবে অজু কর। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৪১)
চাপাচাপি করে অজু ধরে রাখার প্রবণতা পরিহার করুন
ঠান্ডার কারণে শীতের দিনে অজু ধরে রাখতে অনেকে প্রাকৃতিক প্রয়োজন চেপে রেখে অজু ধরে রাখার চেষ্টা করেন। এটি অনুচিত। একদিকে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, অপরদিকে মাকরুহ। এই কাজটি নামাজের মান অনেক কমিয়ে দেয়।
হজরত আয়শা (রা.) বলেন, আমি নবী করিম (সা.)-কে বলতে শুনেছি, খাবারের উপস্থিতে নামাজ নেই এবং মলমূত্রের বেগ চেপে রাখা অবস্থায় নামাজ নেই। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৫৬০)
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) বলেছেন, আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি বিশ্বাসী কোনো মুমিনের জন্য বৈধ নয়, মলমূত্রের বেগ চেপে রাখা অবস্থায় তা দূর না করে নামাজ আদায় করা। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৯১)

