× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মার্চ ১, ২০২৬, ১১:১২ এএম

রহমতের বিদায় ও মাগফিরাত শুরু, ক্ষমা ও আত্মশুদ্ধির মহালগ্ন

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মার্চ ১, ২০২৬, ১১:১২ এএম

রহমতের বিদায় ও মাগফিরাত শুরু। ছবি : সংগৃহীত

রহমতের বিদায় ও মাগফিরাত শুরু। ছবি : সংগৃহীত

ক্যালেন্ডারের পাতায় যেমন অগ্নিঝরা মার্চের শুরু, তেমনি মুমিন মুসলমানের হৃদয়ে এখন রহমতের বারিধারা শেষে ক্ষমার সুসংবাদ। পবিত্র রমজানুল মোবারকের প্রথম ১০ দিন, অর্থাৎ ‘রহমতের দশক’ বিদায় নিয়েছে। আজ থেকে শুরু হলো দ্বিতীয় ১০ দিন বা ‘মাগফিরাতের দশক’। গুনাহগার বান্দার জন্য এই সময়টুকু আল্লাহর বিশেষ উপহার।

১. মাগফিরাতের পরিচয়
‘মাগফিরাত’ শব্দের অর্থ হলো ক্ষমা করা বা গুনাহ মার্জনা করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘রমজান মাসের প্রথম ১০ দিন রহমতের, মাঝের ১০ দিন মাগফিরাতের (ক্ষমার) এবং শেষ ১০ দিন নাজাতের (জাহান্নাম থেকে মুক্তি)।’ (মিশকাত শরিফ)

রহমতের দশকে বান্দা আল্লাহর অশেষ করুণা লাভ করে নিজেকে প্রস্তুত করে। আর মাগফিরাতের দশকে সেই প্রস্তুতির মাধ্যমে নিজের বিগত জীবনের সব ছোট-বড় পাপ থেকে ক্ষমা চেয়ে পবিত্র হওয়ার সুযোগ পায়।

২. মাগফিরাতের ফজিলত
এই ১০ দিনের গুরুত্ব অপরিসীম। মহান আল্লাহ এই সময়ে তার ক্ষমার দুয়ার উন্মুক্ত করে দেন। এর প্রধান ফজিলতগুলো হলো :

গুনাহ মোচন : রমজানের রোজা ও ইবাদতের বরকতে বান্দার পূর্ববর্তী সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।

তওবার কবুলিয়াত : এই সময়ে আন্তরিকভাবে তওবা করলে আল্লাহ পাহাড়সম গুনাহও ক্ষমা করে দেন।

জান্নাতের পথ সুগম : ক্ষমা লাভের মাধ্যমেই বান্দা জান্নাতের যোগ্য হয়ে ওঠে।

৩. মাগফিরাতের দশকের তাৎপর্য
মানুষ হিসেবে আমরা প্রতিনিয়ত ভুল ও পাপে লিপ্ত হই। মাগফিরাতের এই ১০ দিন আমাদের জন্য একটি  ‘আধ্যাত্মিক স্নান’-এর মতো।

আত্মোপলব্ধি : নিজের ভুলগুলো স্বীকার করে আল্লাহর সামনে রোনাজারি করা।

অহংকার থেকে মুক্তি : আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমে মানুষের ভেতরের অহংকার দূরীভূত হয়।

ভ্রাতৃত্ববোধ : নিজে আল্লাহর কাছে ক্ষমা পাওয়ার আশা করলে অন্যের প্রতিও ক্ষমাশীল হওয়ার শিক্ষা পাওয়া যায়।

৪. এই দশকে আমাদের করণীয় (আমল)
মাগফিরাতের পূর্ণ সওয়াব ও ক্ষমা পেতে হলে কিছু বিশেষ আমলের প্রতি যত্নবান হওয়া জরুরি—

বেশি বেশি ইস্তিগফার পড়া : বিশেষ করে ‘আস্তাগফিরুল্লাহ রাব্বি মিন কুল্লি জাম্বিওঁ ওয়া আতুবু ইলাইহি’ পাঠ করা।

সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার : তওবার শ্রেষ্ঠ দোয়াটি নিয়মিত পাঠ করা।

সালাতুত তাসবিহ : সম্ভব হলে নফল নামাজ হিসেবে সালাতুত তাসবিহ আদায় করা।

মানুষকে ক্ষমা করা : আল্লাহ তাদেরই ক্ষমা করেন, যারা অন্য মানুষকে ক্ষমা করে দেয়। তাই মানুষের প্রতি মনে কোনো ক্ষোভ না রাখা।

রাত জেগে ইবাদত : শেষ রাতে সেহরির আগে তাহাজ্জুদ পড়ে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করা।

রমজানের এই মাঝের ১০ দিন হলো আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহের শ্রেষ্ঠ সময়। রহমতের সিক্ততায় যে বীজ হৃদয়ে বপন করা হয়েছে, মাগফিরাতের অশ্রুতে তাকে সজীব করে নাজাতের ফসল ঘরে তোলাই হোক আমাদের লক্ষ্য। ২০২৬ সালের এই অগ্নিঝরা মার্চে একদিকে আমাদের দেশপ্রেমের চেতনা, অন্যদিকে আধ্যাত্মিক মুক্তির এই মাস; উভয়ই আমাদের সামনে সৎ ও নিষ্ঠাবান মানুষ হওয়ার প্রেরণা জোগায়।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!