× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ১০:১৭ এএম

সুখী পরিবারের ইসলামি দাওয়াই

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ১০:১৭ এএম

সুখী পরিবার। ছবি : সংগৃহীত

সুখী পরিবার। ছবি : সংগৃহীত

ইসলাম কেবল ইবাদত-বন্দেগির নাম নয়, বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। একটি সুখী পরিবার গঠন এবং আগামীর যোগ্য নাগরিক হিসেবে সন্তানকে গড়ে তোলার জন্য ইসলাম সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। বর্তমান সময়ের সামাজিক অবক্ষয় ও পারিবারিক কলহ থেকে মুক্তি পেতে ইসলামি জীবনবোধের চর্চা অপরিহার্য।

১. সুখী দাম্পত্য জীবনের মূলমন্ত্র: পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অধিকার
ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী, দাম্পত্য জীবনের ভিত্তি হলো ভালোবাসা এবং একে অপরের প্রতি দয়া। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, “তিনি তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের জোড়া সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও এবং তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা আর-রুম: ২১)

অধিকার সচেতনতা: স্বামীর যেমন স্ত্রীর ওপর অধিকার আছে, স্ত্রীরও স্বামীর ওপর তেমন অধিকার আছে। দাম্পত্য কলহ এড়াতে একে অপরের দায়িত্ব ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি।

উত্তম ব্যবহার: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই উত্তম, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম।” ছোটখাটো ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখা এবং ধৈর্য ধরা সুখী পরিবারের চাবিকাঠি।

পরামর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত: পারিবারিক যেকোনো বড় সিদ্ধান্ত স্বামী-স্ত্রী পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণ করলে পরিবারে বরকত ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়।

২. আদর্শ সন্তান লালন-পালন: মা-বাবার করণীয়
সন্তান মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া একটি আমানত। কেয়ামতের দিন প্রত্যেক মা-বাবাকে তাদের সন্তান লালন-পালন সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে।

শৈশবেই দ্বীনি শিক্ষা: সন্তান কথা বলা শেখার পর থেকেই তাকে আল্লাহর পরিচয়, কালিমা এবং ছোট ছোট দোয়া শেখানো উচিত। আদর্শ পরিবেশেই আদর্শ সন্তান গড়ে ওঠে।

আচরণে আদর্শ হওয়া: সন্তান যা শোনে তার চেয়ে যা দেখে তা দ্রুত শেখে। তাই মা-বাবাকে নিজেদের আচরণে সৎ, ধৈর্যশীল এবং ইবাদতগুজার হতে হবে।

বৈষম্য না করা: ছেলে বা মেয়ে সন্তানের মধ্যে কোনো প্রকার বৈষম্য করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। সব সন্তানকে সমান চোখে দেখা এবং তাদের প্রতি সমভাবে ভালোবাসা প্রকাশ করা সুন্নত।

প্রযুক্তির ব্যবহারে সতর্কতা: বর্তমান যুগে ইন্টারনেটের অপব্যবহার থেকে সন্তানকে রক্ষা করা বড় চ্যালেঞ্জ। তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলুন যাতে তারা কোনো কিছু লুকাতে না চায় এবং দ্বীনি মূল্যবোধের মাধ্যমে তাদের সঠিক-ভুলের পার্থক্য বুঝিয়ে দিন।

৩. পারিবারিক বরকত বৃদ্ধির উপায়
একটি ঘরকে কেবল ইটের দেয়াল নয়, বরং জান্নাতের টুকরো হিসেবে গড়ে তুলতে নিচের আমলগুলো সহায়ক হতে পারে:

জামাতে নামাজ ও কুরআন তিলাওয়াত: ঘরে নিয়মিত নফল নামাজ পড়া এবং কুরআন তিলাওয়াতের শব্দ প্রতিধ্বনিত হওয়া পরিবারে প্রশান্তি আনে।

একসাথে খাবার খাওয়া: পরিবারের সবাই অন্তত এক বেলা একসাথে খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে সদস্যদের মধ্যে হৃদ্যতা বাড়ে।

পর্দা ও শালীনতা রক্ষা: পারিবারিক পরিমণ্ডলে ইসলামের পর্দার বিধান মেনে চলা এবং পরচর্চা (গিবত) থেকে বিরত থাকা ঘরের আধ্যাত্মিক পরিবেশ রক্ষা করে।

সুখী পরিবার মানেই বিলাসিতা নয়, বরং যেখানে অল্প তুষ্টিতে শান্তি থাকে এবং একে অপরকে জান্নাতের পথে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। ইসলামি নীতিমালা অনুসরণের মাধ্যমেই একটি পরিবার দুনিয়া ও আখিরাতে সফল হতে পারে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!