পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে প্রতিটি মানুষকেই একদিন পাড়ি জমাতে হবে পরপারে। আর পরকালের সেই দীর্ঘ যাত্রার প্রথম মনজিল বা স্টেশন হলো কবর। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, কবরের প্রথম রাতটি প্রতিটি মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং শিহরণ জাগানিয়া। সেই রাতে ঠিক কী ঘটে মৃত মানুষের সঙ্গে? কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে তার একটি চিত্র তুলে ধরা হলো।
পরলৌকিক জীবন বা আখিরাতের প্রথম ধাপ হলো কবর। কবরের প্রথম রাত একজন মুমিনের জন্য যেমন পরম শান্তির, তেমনি পাপাচারীর জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ।
১. কবরের সংকীর্ণতা ও চাপ
মানুষকে যখন কবরে শায়িত করা হয় এবং দাফনকারীরা তাকে রেখে চলে যায়, তখন কবর তাকে সজোরে চাপ দেয়। হাদীস অনুযায়ী, কবরের এই চাপ থেকে কেউই রেহাই পায় না। তবে মুমিনদের জন্য এই চাপ হয় পরম মমতায় মায়ের আলিঙ্গনের মতো, আর পাপাচারীদের জন্য তা হয় অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক।
২. মুনকার ও নাকিরের আগমন
দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর মৃত ব্যক্তির কাছে দুইজন ফেরেশতা আসেন, যাদের নাম ‘মুনকার’ ও ‘নাকির’। তাঁদের চেহারা অত্যন্ত ভয়ংকর এবং কণ্ঠস্বর বজ্রের মতো গর্জনশীল। তাঁরা মৃত ব্যক্তিকে উঠিয়ে বসান এবং তিনটি বিশেষ প্রশ্ন করেন:
তোমার রব কে? (মান রাব্বুকা?)
তোমার দ্বীন কি? (মা দ্বীনুকা?)
এই ব্যক্তিটি (রাসূলুল্লাহ সা.) কে? (মান হাজুর রাজুল?)
৩. মুমিন ও পাপাচারীর জবাব
মুমিন ব্যক্তি: দুনিয়ায় যার ঈমান মজবুত ছিল, সে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে জবাব দেবে- ‘আমার রব আল্লাহ, আমার দ্বীন ইসলাম এবং ইনি আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (সা.)।’ তখন আকাশ থেকে ঘোষণা আসবে, “আমার বান্দা সত্য বলেছে।” তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দেওয়া হবে এবং জান্নাতের সাথে কবরের একটি সুড়ঙ্গ পথ করে দেওয়া হবে।
পাপাচারী বা মুনাফিক: যারা অবাধ্য ছিল, তারা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে না। তারা কেবল বলবে, “হায়! আমি তো জানি না।” তখন তাদের জন্য জাহান্নামের অগ্নিশিখা ও বিছানা প্রস্তুত করা হবে এবং কবরকে অত্যন্ত সংকীর্ণ করে দেওয়া হবে।
৪. নেক আমলের সঙ্গদান
কবরের সেই একাকীত্বে মানুষের পার্থিব কোনো সম্পদ বা আত্মীয়স্বজন পাশে থাকে না। হাদিসে এসেছে, মানুষের নেক আমলগুলো (নামাজ, রোজা, সদকা) সুন্দর অবয়বে কবরে তার পাশে এসে দাঁড়ায় এবং ফেরেশতাদের আজাব থেকে তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করে।
৫. জান্নাত ও জাহান্নামের দৃশ্য প্রদর্শন
মৃত ব্যক্তিকে প্রতিদিন দুইবার (সকাল ও সন্ধ্যায়) তার চূড়ান্ত ঠিকানা দেখানো হয়। মুমিন ব্যক্তিকে তার জান্নাতের প্রাসাদ দেখিয়ে আনন্দিত করা হয়, আর অপরাধীকে তার জাহান্নামের অবস্থান দেখিয়ে আতঙ্কিত করা হয়।
কবরের প্রথম রাত হলো মানুষের আসল পরিণতির শুরু। রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রায়ই কবরের আজাব থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাইতেন। আলেমদের মতে, দুনিয়ার জীবনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং পবিত্রতা অর্জন কবরের জীবনের কঠিন মুহূর্তগুলোকে সহজ করে দেয়।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন