মানুষ দৈনন্দিন প্রয়োজনে প্রতিদিন বহুবার ঘর থেকে বাইরে বের হয়। বাইরের এই জগত যেমন কর্মমুখর, তেমনি এখানে নানাবিধ বিপদ-আপদ ও শয়তানের প্ররোচনার ভয় থাকে। ইসলামে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় নির্দিষ্ট দোয়া পড়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, এই দোয়াটি পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা বান্দার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান এবং শয়তান তার থেকে দূরে সরে যায়।
ঘর থেকে বের হওয়ার দোয়া ও অর্থ
হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, ঘর থেকে বের হওয়ার সময় যদি কেউ এই দোয়াটি পড়ে:
আরবি: بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহি, ওয়া লা হাওলা ওয়া লা কুয়ওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
অর্থ: আল্লাহর নামে (বের হচ্ছি), আল্লাহর ওপরই ভরসা করলাম। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো পাপ থেকে বাঁচার বা পুণ্য করার শক্তি কারো নেই। (সুনানে আবু দাউদ: ৫০৯৫)
দোয়াটি পাঠ করার অলৌকিক ফজিলত
হাদিস শরিফে এই দোয়া পাঠকারীর জন্য চারটি বিশেষ পুরস্কারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দোয়াটি পড়ার সঙ্গে সঙ্গে অদৃশ্য থেকে বলা হয়:
১. হুদেয়িতা (هدیت): তোমাকে সঠিক পথ দেখানো হয়েছে।
২. কুফিতা (کفیت): তোমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট হয়ে গেছেন।
৩. উয়িকতা (وقیت): তোমাকে সব বিপদ থেকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।
৪. শয়তান দূরে সরে যায়: এই দোয়া পড়ার পর শয়তান হতাশ হয়ে অন্য শয়তানকে বলে, “তুমি ওই ব্যক্তির কী ক্ষতি করতে পারবে যাকে সঠিক পথ দেখানো হয়েছে, যার জন্য আল্লাহ যথেষ্ট এবং যাকে রক্ষা করা হয়েছে?” (তিরমিজি: ৩৪২৬)।
কেন এই দোয়াটি গুরুত্বপূর্ণ?
রাস্তায় বের হলে দুর্ঘটনা, মানুষের কুনজর, চুরি-ডাকাতি বা শয়তানের কুমন্ত্রণা—সবকিছু থেকেই নিরাপত্তার প্রয়োজন হয়। এই ছোট দোয়াটি পড়ার মাধ্যমে বান্দা স্বীকার করে যে, তার নিজের কোনো ক্ষমতা নেই, সবকিছু আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল। এই ‘তাওয়াক্কুল’ বা আল্লাহর ওপর ভরসার কারণেই আল্লাহ নিজ জিম্মায় বান্দাকে নিরাপত্তা দান করেন।
রাসূল (সা.)-এর আরও একটি আমল
উম্মুল মুমিনিন হযরত উম্মে সালামা (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি (সা.) যখনই ঘর থেকে বের হতেন, তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে এই দোয়াটিও পড়তেন—
“আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা আন আদিল্লা আও উদাল্লা...” (হে আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি যেন আমি পথভ্রষ্ট না হই অথবা আমাকে যেন কেউ পথভ্রষ্ট না করে)।
প্রতিবার ঘর থেকে বের হওয়ার সময় সামান্য কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে এই দোয়াটি পড়ার অভ্যাস করা উচিত। এতে কেবল শয়তানই দূরে সরে যায় না, বরং সারাদিনের কাজে আল্লাহর পক্ষ থেকে বরকত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।


