মানুষের মৃত্যুর পর আখেরাতের প্রথম মঞ্জিল হলো কবর। কবরের ভয়াবহ আজাব থেকে মুক্তি পাওয়া মুমিনের একান্ত কাম্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) সর্বদা কবরের আজাব থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাইতেন এবং সাহাবিদেরও কিছু বিশেষ আমলের পরামর্শ দিতেন। কুরআন ও হাদিসের আলোকে কবরের আজাব থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রধান কিছু আমল নিচে তুলে ধরা হলো:
ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, পরকালের প্রথম ধাপ হলো কবর। কবরের আজাব থেকে মুক্তি পেতে মহানবী (সা.) বেশ কিছু আমল ও দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন।
১. সূরা মুলক পাঠ করা
কবরের আজাব থেকে সুরক্ষা পেতে সবচেয়ে কার্যকর আমল হলো সূরা মুলক তিলাওয়াত করা। নবী কারীম (সা.) বলেছেন, "কুরআনে ৩০ আয়াত বিশিষ্ট একটি সূরা রয়েছে, যা পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে যতক্ষণ না তাকে ক্ষমা করা হয়। আর সেটি হলো সূরা তাবারাকাল্লাজি বিয়াদিহিল মুলকু (সূরা মুলক)।" (তিরমিজি)। নিয়মিত রাতে ঘুমানোর আগে এই সূরা পাঠ করার অভ্যাস কবরের আজাব থেকে ঢাল হিসেবে কাজ করে।
২. নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়
নামাজ মুমিনের নূর এবং কবরের অন্ধকারের আলো। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, কবরে যখন আজাবের ফেরেশতারা আসবে, তখন নামাজ ব্যক্তির মাথার দিক থেকে এসে তাকে সুরক্ষা দেবে। নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়, যা কবরের সওয়াল-জওয়াব সহজ করে দেয়।
৩. বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে পানাহ চাওয়া
রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রত্যেক নামাজের শেষ বৈঠকে (তাশাহহুদের পর) কবরের আজাব থেকে মুক্তির জন্য দোয়া করতেন। তিনি এই দোয়াটি বেশি পড়তেন: “আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিন আজাবিল কাবরি, ওয়া মিন আজাবিন নার...” (হে আমার আল্লাহ, আমি আপনার কাছে কবরের আজাব এবং জাহান্নামের আজাব থেকে আশ্রয় চাই)।
৪. গীবত ও প্রস্রাবের অপবিত্রতা থেকে সতর্ক থাকা
দুটি বিশেষ কারণে মানুষ কবরে সবচেয়ে বেশি আজাব ভোগ করে—এক. মানুষের গীবত বা পরনিন্দা করা এবং দুই. প্রস্রাব থেকে ঠিকমতো পবিত্র না হওয়া। সহিহ বুখারির এক হাদিসে এসেছে, নবীজি (সা.) দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলেছিলেন, "তাদের আজাব দেওয়া হচ্ছে, তবে কোনো বড় (কঠিন) কাজের জন্য নয়; একজন প্রস্রাবের ছিটে থেকে বাঁচত না, অন্যজন চোগলখুরি করে বেড়াত।" তাই পবিত্রতা রক্ষা করা কবরের আজাব থেকে বাঁচার অন্যতম শর্ত।
৫. দান-সদকাহ ও নেক আমল
আল্লাহর পথে দান-সদকাহ কবরের আজাবকে প্রশমিত করে। হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে, দান-সদকাহ কবরের উত্তাপকে নিভিয়ে দেয় যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে ফেলে। এছাড়া জিকির-আজকার ও পিতামাতার জন্য দোয়া করাও কবরের আজাব লাঘবের মাধ্যম।
কবর আমাদের চিরস্থায়ী ঠিকানার প্রথম ধাপ। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে মহান আল্লাহর হুকুম পালন এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণই হতে পারে কবরের কঠিন আজাব থেকে মুক্তির একমাত্র উপায়। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে কবরের আজাব থেকে হেফাজত করুন। আমীন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন