× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মার্চ ৯, ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম

কী হচ্ছে জঙ্গল সলিমপুরে?

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মার্চ ৯, ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র মজুত ও সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে পরিচিত। ধারণা করা হচ্ছে, দেশের শীর্ষ কয়েকজন সন্ত্রাসীও এই এলাকায় আত্মগোপনে থাকতে পারে।

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) একেএম শহিদুর রহমানের মতে, জঙ্গল সলিমপুর এখন কার্যত সন্ত্রাসীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) ভোর পাঁচটা থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম নির্মূলে যৌথ অভিযান শুরু হয়। পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় চার হাজার সদস্য এতে অংশ নিচ্ছেন। তারা এলাকায় বিভিন্ন স্থানে ভাগ হয়ে অভিযান পরিচালনা করছেন।

অভিযানের বিষয়টি চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

অস্ত্র মজুদ এবং অপরাধীদের আত্মগোপনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে জঙ্গল সলিমপুরকে ঘিরে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পিতভাবে এই অভিযান শুরু করা হয়েছে।

গত ১৯ জানুয়ারি একটি ঘটনার পর জঙ্গল সলিমপুর নতুন করে আলোচনায় আসে। ওই দিন ‘অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে’ গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে র‍্যাবের একটি দল সেখানে অভিযান চালালে তারা হামলার শিকার হয়। ওই হামলায় র‍্যাবের একজন কর্মকর্তা নিহত হন এবং আরও তিনজন সদস্য আহত হন।

ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, র‍্যাবের ওপর হামলার সময় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলাকারীদের জড়ো করা হয়। র‍্যাবের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন হামলায় অংশ নিয়েছিল।

এদিকে আজকের অভিযানের বিষয়ে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকেই জঙ্গল সলিমপুরের চারপাশ ঘিরে ফেলে যৌথ বাহিনী। এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোতে তল্লাশিচৌকি বসানো হয়েছে, যাতে অভিযান চলাকালে কেউ পালিয়ে যেতে না পারে। বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করছেন। অতীতে অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হওয়ায় এবারের অভিযানে ভিন্ন কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বর্তমানে জঙ্গল সলিমপুরে দুটি সন্ত্রাসী পক্ষ সক্রিয়। একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং অন্য পক্ষের নেতৃত্বে রোকন উদ্দিন। ইয়াসিন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সীতাকুণ্ডের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা এস এম আল মামুনের অনুসারী ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি নিজেকে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে দাবি করে আসছেন।

অস্ত্র ও আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান বলেন, আমাদের অভিযান চলমান। এটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত কত অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কিংবা গ্রেপ্তারের সংখ্যা বলা যাচ্ছে না। এখানে আমাদের যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে একটি অস্থায়ী ক্যাম্প করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে সামনে নির্বিঘ্নে অভিযান পরিচালনা করা যায়।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পশ্চিমে এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটির বিপরীতে লিংক রোডের উত্তর পাশে প্রায় ৩,১০০ একর জায়গাজুড়ে জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থান। প্রশাসনিকভাবে এটি সীতাকুণ্ড উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হলেও নগরের খুব কাছেই অবস্থিত। এলাকাটির পূর্ব দিকে হাটহাজারী উপজেলা এবং দক্ষিণে বায়েজিদ বোস্তামী থানা রয়েছে।

Link copied!