বান্দরবানের লামা বনবিভাগে চলছে অবৈধ অর্থ ও গাছ কেটে পাচারের হিড়িক। নিয়মের তোয়াক্কা না করে হর হামেশায় চলছে গাছকাটা ও দখলের রাজত্ব। এ বন বিভাগের একাধিক অসাধু বন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দখলদারিত্ব থেকে অভিনব কায়দায় পাল্টে যাচ্ছে বনের নাম। যেন দুর্নীতির শীর্ষে উঠছে লামার বনবিভাগ। ফলে প্রতিদিনই লক্ষাধিক রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
নিয়মের তোয়াক্কা না করে লামা সদর রেঞ্জের অন্তর্ভুক্ত লাইনঝিরি গেটের দায়িত্বে থাকা গার্ড দুদু মিয়া ও বন বিভাগের স্টাফ কাসেমের মাধ্যমে প্রতিদিন অবৈধভাবে বিভিন্ন ছোট বড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, ইয়াংছা বিট সংলগ্ন গেটে বারেক নামের এক লোক দিয়ে গেটের টাকা উত্তোলন করে ফরেস্ট স্টাফ আমিরুল ইসলাম, প্রতিদিন ভোরে চোরাইভাবে গামারি, বেলজিয়াম, সেগুনকাঠ বোঝাই মিনি ট্রাক যায় এই গেট দিয়ে প্রতি গাড়ি ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়। লামা সদর রেঞ্জের, রেঞ্জ কর্মকর্তা আতা এলাহীর নিয়ন্ত্রণে লাইনঝিরি গেট ও ইয়াংছা গেট
অনুসন্ধানে জানা যায়, লামার ইয়াংছা খালের মাথায় কিয়াংঝিরি নামক স্থানে চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের কাঠ ব্যবসায়ী নেজামের নামে এক বছর আগে ৫ একর বাগান জোত পারমিট হয়। জোত মালিক নেজাম মৌখিকভাবে এলাকার হামিদ ও আব্বাস সওদাগরের কাছে জোত ও বদুরঝিরির কাঠের ডিপু হস্তান্তর করেন। কিন্তু নেজামের বাগানে লামা বন বিভাগের অনুমোদিত ৫ একর জোতে বিগত ৬ মাসে শতাধিক ঘনফুটের মতো কাঠের স্তূপ দেখা গেছে। এ ছাড়াও জোত পারমিটের ওয়ার্কাটারে প্রায় ২৮০০ পিচ গাছ কাটার অনুমোদন দেয় লামা বনবিভাগ।
অনুমোদিত জোতের স্থানে শুধু ১০০ ঘনফুটের মতো গাছ কাটার চিহ্ন দেখা মিললেও গত ৬ মাসে তাদের বিভিন্ন ডিপু থেকে ৩০ ট্রাকের বেশি কাঠ পাচার হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক জোত মালিক জানান, কিয়াংঝিরিতে নেজামের নামে ৫ একর জোত পারমিট থাকলেও লামা বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় লাগুয়া লামা বন বিভাগের রিজার্ভ বাগান থেকে বৈধ পারমিটের আড়ালে কাঠ পাচার হয়।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, লামা বন বিভাগের সাংগু মৌজার রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেনকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জোত পারমিট অনুমোদন নেওয়ার চেষ্টা করে চকরিয়ার কাঠ ব্যবসায়ী খালেক ও হামিদ। লামার সাংগু মৌজায় ইয়াংছার বনপুকুরের সাপ-মারা ঝিরির মাথায় এক ম্রুংয়ের বাগানকে মগের নামে ৩ একর বাগান দেখিয়ে ভিন্ন ছৌহিদ্দিকের বাগানের মালিকানা করার জন্য।
লামার এক কাঠ ব্যবসায়ী জানান, অবৈধভাবে জোত অনুমোদন দিতে প্রায় ৭-৮ লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়া লাগে। প্রকৃতপক্ষে দেড় ২ লাখ টাকার মতো সরকারি কোষাগারে জমা হলেও বাকি টাকা লুটপাট করে নিচ্ছে অসাধু বন-কর্মকর্তারা
সরেজমিন দেখা যায়, নিয়ম অনুযায়ী ভূমি অফিসের কানুনগো তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নিয়ম থাকলেও তদন্ত না করেই অফিসে বসেই রিপোর্ট দিয়ে দেয় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে। অনুমোদনবিহীন কাঠের ডিপুর মাধ্যমে বন কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় সংরক্ষিত রিজার্ভের কাঠ পাচার করা হয় বলে জানানা স্থানীয়রা।
স্থানীয় সুশীল সমাজ বলছে, এভাবে অবৈধভাবে কাঠ পাচার চলতে থাকলে লামা বন বিভাগের সংরক্ষিত রিজার্ভ ধ্বংস হয়ে যাবে, ফলে পড়বে হুমকির মুখে পরিবেশ।
লামা সদর রেঞ্জের, রেঞ্জার আতা এলাহীর কাছে জাতীয় তথ্য অধিকার আইনে লিখিত আবেদনের মাধ্যমে লামা বন বিভাগের ২, ৩, ৪, জোতগুলো কার নামে অনুমোদিত এবং কারা দেখভাল করেন এই তথ্য জানতে চাইলে তিনি রূপালী বাংলাদেশকে জানান, এই পর্যন্ত কোনো সাংবাদিক এভাবে তথ্য জানতে চায়নি।
তবে তথ্য ফরমে আবেদনের ১৫ দিনের অধিক সময় অতিক্রম হওয়ায় যোগাযোগ করা হয় লামা বন বিভাগের ডিএফওর সঙ্গে। এসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনার প্রমাণ পেলে ডিপার্টমেন্টাল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

