২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে প্রথমবারের মতো ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ তুলে দিয়েছিলেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
সে সময় ট্রাম্পকে একজন ‘ঐক্য ও আশার প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করা হলেও বর্তমানে এই পুরস্কার প্রদান নিয়ে ফিফার ভেতরেই চরম অস্বস্তি ও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
কেন এই বিতর্ক?
পুরস্কার পাওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পের বেশ কিছু রাজনৈতিক পদক্ষেপ ফিফা কর্মকর্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান: সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় বিমান হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছে। মাদক ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে বর্তমানে তারা মার্কিন কারাগারে বন্দি।
গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি: কৌশলগত কারণে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘খুবই প্রয়োজন’ উল্লেখ করে সেখানে আগ্রাসন চালানোর হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
ফিফার ভেতরে বিভক্তি
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফিফার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগে যা কেবল সাধারণ অস্বস্তি ছিল, তা এখন ‘চরম লজ্জায়’ পরিণত হয়েছে। অনেক কর্মকর্তাই এই পুরস্কারের স্বচ্ছতা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
অনেকেই নিজের ক্যারিয়ার ও সম্মান বাঁচাতে এই রাজনৈতিক বিতর্ক থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখছেন। তাদের মতে, বিশ্বকাপের আগে এই ধরনের বিতর্ক টুর্নামেন্টের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারে।
অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ থাকলেও ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছে।
ফিফার একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, শান্তি ও ঐক্যের জন্য অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার দেওয়া হয়। ট্রাম্পের সঙ্গে ফিফার সুসম্পর্ক রয়েছে, যা আগামী বিশ্বকাপের আয়োজনে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
ফিফা আরও উল্লেখ করেছে যে, ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী (ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো) তার পদকটি ট্রাম্পকে উপহার দিয়েছেন, যা ট্রাম্পের ভূমিকারই স্বীকৃতি।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ফিফার অনেক সদস্য মনে করছেন, ট্রাম্পের এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের ফলে বিশ্বকাপের আয়োজন ‘অত্যন্ত নাজুক’ ও ‘কঠিন’ এক পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারে।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন