ম্যাচটা হওয়ার কথা ছিল ২২ গজের ক্রিজে, কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে সেই লড়াই চলল লাহোরের পিসিবি সদর দপ্তর থেকে আইসিসির ড্রয়িং রুম পর্যন্ত। একদিকে ছিল ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে বড় মহারণ ‘ভারত-পাকিস্তান’ ম্যাচ বাতিলের শঙ্কা, অন্যদিকে ছিল প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের প্রতি অবিচারের প্রতিবাদ। অবশেষে সব নাটকের অবসান ঘটিয়ে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে নীল জার্সির মুখোমুখি হচ্ছে সবুজ জার্সিই।
প্রতিবাদের সেই উত্তাল দিনগুলো গল্পের শুরুটা হয়েছিল বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে। নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারত সফরে যেতে রাজি না হওয়ায় আইসিসি যখন বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়, তখন রুখে দাঁড়ায় পাকিস্তান।
পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি সরাসরি আঙ্গুল তোলেন আইসিসির ‘দ্বিচারিতা’র দিকে। সাফ জানিয়ে দেন, বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় হলে ভারত-পাকিস্তান মহারণ বয়কট করবে পাকিস্তান। ক্রিকেটের সবচেয়ে লাভজনক এই ম্যাচটি বাতিলের হুমকিতে কাঁপন ধরেছিল বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাতেও।
গত রোববার ৮ ফেব্রুয়ারি লাহোরে যখন বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলাম এবং আইসিসি পরিচালক ইমরান খাজা পা রাখেন, তখন ক্রিকেট পাড়ায় টানটান উত্তেজনা। পর্দার আড়ালে চলে দীর্ঘ আলোচনা। পাকিস্তান তাদের অবস্থানে অনড় ছিল—যতক্ষণ না বাংলাদেশের জন্য সম্মানজনক কোনো সমাধান আসছে!
অবশেষে সোমবার ৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে আইসিসি তাদের কড়া অবস্থান থেকে সরে আসে। ঘোষণা করা হয়, বাংলাদেশের ওপর কোনো জরিমানা চাপানো হবে না। শুধু তাই নয়, ২০২৮-২০৩১ চক্রে বাংলাদেশকে বাড়তি একটি বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের অধিকার দিয়ে এক প্রকার ‘ক্ষতিপূরণ’ দিচ্ছে আইসিসি।
বিসিবি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারা পাকিস্তানকে অনুরোধ করে মাঠে নামার!
এরপরই সোমবার রাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি বার্তা বদলে দেয় সব হিসাব। সেখানে বলা হয়, বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর অনুরোধ এবং ন্যায্য দাবি পূরণ হওয়ায় পাকিস্তান দল ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে।
পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি জানান, আমরা চেয়েছিলাম ক্রিকেটে যেন সবার প্রতি সমান বিচার হয়। বাংলাদেশ তাদের প্রাপ্য সম্মান পেয়েছে, পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন