১ লাখ ৩২ হাজার ধারণক্ষমতার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের গ্যালারি দর্শকশূন্য থাকলেও, টেলিভিশন সেটের সামনে থাকা কোটি ভক্তের হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফগানিস্তানের মধ্যকার আজকের এই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচটি।
নাটকীয়তায় ভরপুর ম্যাচটি গড়াল দুইবার সুপার ওভারে! শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের পর ৪ রানে আফগানিস্তানকে হারিয়ে মাঠ ছাড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা।
১৮৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তান ম্যাচটি টাই করে ফেলে। ফলে খেলা গড়ায় সুপার ওভারে। প্রথম সুপার ওভারে আফগানিস্তান ১৭ রান সংগ্রহ করলে অনেকেই আফগানদের জয় দেখছিলেন। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা হার মানার পাত্র নয়; তারাও সমান ১৭ রান তুলে ম্যাচ দ্বিতীয়বারের মতো সুপার ওভারে নিয়ে যায়।
দ্বিতীয় সুপার ওভারে আগে ব্যাট করে দক্ষিণ আফ্রিকা ২৩ রান সংগ্রহ করে। ২৪ রানের পাহাড়সম লক্ষ্যে নেমে আফগানিস্তানের অভিজ্ঞ মোহাম্মদ নবি দ্বিতীয় বলে শুন্য রানে আউট হলে চাপে পড়ে দলটি। ৪ বলে ২৪ রানের অসম্ভব সমীকরণে ক্রিজে আসেন রহমানুল্লাহ গুরবাজ।
টানা তিন বলে তিন ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ আবার আফগানিস্তানের দিকে ঘুরিয়ে দেন তিনি। শেষ বলে ৫ রানের সমীকরণে গুরবাজ ক্যাচ আউট হলে ৪ রানের শ্বাসরুদ্ধকর জয় পায় প্রোটিয়ারা।
মূল ম্যাচেও রোমাঞ্চের কমতি ছিল না। ১৮৮ রানের লক্ষ্যে নামা আফগানিস্তানের শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৩ রান, হাতে মাত্র ১ উইকেট। কাগিসো রাবাদার করা সেই ওভারের প্রথম বলটিই হয় 'নো' এবং পরেরটি 'ওয়াইড'। এরপর নূর আহমাদ একটি ছক্কা হাঁকালেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি টাই করতে সক্ষম হন।
এর আগে টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় আফগানিস্তান। দলীয় ৫ রানে অধিনায়ক এইডেন মার্করাম ফিরলেও কুইন্টন ডি কক ও রায়ান রিকেলটনের ২য় উইকেটে ৬১ বলে ১১৪ রানের জুটি বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়।
রিকেলটন মাত্র ২৮ বলে ৬১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। তবে আফগান পেসার আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের ৩ উইকেট এবং রশিদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ২০০ রানের সম্ভাবনা জাগিয়েও দক্ষিণ আফ্রিকা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮৭ রান তোলে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন