ছেলের বয়স কম হলেও ব্যাটে আগ্রাসন প্রবল—মাঠে নামলেই বোলারদের ওপর চড়াও হওয়াই যেন তার স্বভাব। অন্যদিকে বাবার বয়স ষাট পেরোলেও ব্যাট হাতে এখনো দাপট কমেনি। এই বাবা-ছেলে একসঙ্গে ওপেনিংয়ে নেমে যা করেছেন, তা ক্রিকেটপ্রেমীদের বিস্মিত করেছে। পেশাদার কিংবা অপেশাদার—দুই প্রজন্মের এমন ঝড়ো ব্যাটিং ক্রিকেট বিশ্বে খুব কমই দেখা গেছে।
অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড অ্যান্ড সাবআরবান অ্যাসোসিয়েশন ক্রিকেটে গত শনিবার ঘটে এই চমকপ্রদ ঘটনা। করোম্যান্ডেল ভ্যালির হয়ে মরফেটভিল পার্কের বিপক্ষে ওপেনিং জুটিতে অবিচ্ছিন্ন ৫৯০ রান করেন বাবা ড্যারেন চিক ও তার ছেলে স্যাম চিক। ৪০ ওভারের এই ম্যাচের ঘটনাটি ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে।
ইনিংসের শুরুতে বাবা ড্যারেন কিছুটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন ছেলে স্যাম। মাত্র ৫৬ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর তিনি আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন। সেঞ্চুরি থেকে ১৫০ রানে পৌঁছাতে তার লাগে মাত্র ১৭ বল। এরপর ৮৭ বলে পূর্ণ করেন ডাবল সেঞ্চুরি, আর পরের ১০০ রান করেন মাত্র ২২ বলেই।
ইনিংস শেষে স্যাম চিক অপরাজিত থাকেন ৪০২ রানে। ১৩২ বলের এই বিধ্বংসী ইনিংসে তিনি হাঁকান ৪২টি ছক্কা ও ৩০টি চার। অর্থাৎ কেবল বাউন্ডারি থেকেই আসে ৩৮৪ রান। তার স্ট্রাইক রেট ছিল ৩০০-এরও বেশি। ইনিংসের ৩২তম ওভারে ডার্সি লেনের এক ওভারে টানা ছয়টি ছক্কাও মারেন স্যাম।
ছেলের তাণ্ডবের দিনে বাবা ড্যারেন চিকও কম যাননি। ষাটোর্ধ্বদের ক্রিকেটে নিয়মিত খেলা ড্যারেন ১০৮ বলে ১৭৫ রানে অপরাজিত থাকেন। নির্ধারিত ৪০ ওভার শেষে করোম্যান্ডেল ভ্যালির সংগ্রহ দাঁড়ায় বিনা উইকেটে ৫৯০ রান। অস্ট্রেলিয়ার ফক্স স্পোর্টস জানিয়েছে, ৫৯০ রানের এই জুটি ৪০ ওভারের ম্যাচে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ।
বাবা-ছেলের জুটির ব্যাটিং যে কতটা দুর্দান্ত ছিল, সেটি বোঝা যায় রান তাড়ায় নামা মরফেটভিল পার্কের ইনিংসে তাকালে। ৫৯০ রান তাড়া করতে নেমে পুরো ৪০ ওভার খেলে ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৪৬ রান করতে পারে দলটি। ফলে করোম্যান্ডেল ভ্যালি জেতে ৪৪৪ রানের বিশাল ব্যবধানে। ব্যাটিংয়ে কয়েক ঘণ্টা তাণ্ডব চালানোর পর বাবা-ছেলে মিলে বোলিংও ওপেন করেন। ড্যারেন ১১ রান দিয়ে ১ উইকেট নিলেও স্যাম উইকেটশূন্য থাকেন।
অপেশাদার ক্রিকেটের এই স্কোরকার্ড প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে আলোড়ন পড়ে যায়। হ্যারি হ্যারিস নামের একজন লিখেছেন, ‘স্যামের বোধ হয় কোথাও যাওয়ার তাড়া ছিল।’
ইয়াইন নামের একজন ড্যারেনের প্রসঙ্গ তুলে মজা করে লিখেছেন, ‘১০৮ বলে ১৭৫* করার পরও নিজের ছেলের কাছে তাকে একেবারে পাড়ার ক্রিকেটার মনে হচ্ছে।’
লেড জনসন প্রতিপক্ষের বোলিং নিয়ে প্রশ্ন তুলে লিখেছেন, ‘ছেলেটি প্রতি বলে প্রায় ৪ রান করে তুলেছে। এটি কোন স্তরের বোলিং?’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ক্রিস গেইলও এই আলোচনায় শামিল হয়েছেন। বাবা-ছেলের ইনিংস নিয়ে করা একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তিনি আগুনের ইমোজি দিয়ে মন্তব্য করেন, ‘এ কী দেখছি!’


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন