চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে গোলবন্যা নয়, মাদ্রিদের মেট্রোপলিতানো দেখল কৌশল, ধৈর্য আর ভুলের অপেক্ষার এক টানটান লড়াই। ফলে গোলের বন্যা নয়, আটলেটিকো-আর্সেনাল ম্যাচ শেষ হয়েছে ১-১ ব্যবধানে।
আগের রাতের পিএসজি-বায়ার্ন ম্যাচে যেখানে ৯ গোলের রোমাঞ্চে আক্রমণের উৎসব হয়েছিল, সেখানে এই ম্যাচ ছিল একেবারেই ভিন্ন চরিত্রের। ডিয়েগো সিমিওনে ও মিকেল আর্তেতার দল কেউই খুব বেশি ঝুঁকি নিতে চায়নি। দুই দলই অপেক্ষা করেছে প্রতিপক্ষের ভুলের, আর সেই ভুল থেকেই এসেছে গোল।
শুরুতে আটলেটিকো ছিল বেশি আগ্রাসী। ঘরের মাঠের আবহ, দর্শকদের তুমুল সমর্থন এবং উচ্চচাপের ফুটবলে আর্সেনালকে চাপে রাখার চেষ্টা করে তারা। জুলিয়ান আলভারেজ ছিলেন আটলেটিকোর আক্রমণের প্রধান হুমকি। বক্সের বাইরে থেকে তার এক শট ঠেকাতে ডেভিড রায়াকে ভালোই পরীক্ষা দিতে হয়।
আর্সেনাল অবশ্য ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে। ডেকলান রাইস, গ্যাব্রিয়েল ও উইলিয়াম সালিবার শারীরিক শক্তি ও পজিশনিংয়ে আটলেটিকোর আক্রমণ বারবার আটকে যায়। অন্যদিকে ননসো মাদুয়েকে গতি দিয়ে আটলেটিকোর রক্ষণকে ব্যস্ত রাখেন।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে আসে ম্যাচের প্রথম বড় ভুল। নিজেদের অর্ধে বল হারানোর পর আটলেটিকো বিপদে পড়ে। বক্সে ভিক্টর জিওকেরেসকে ঠেলে ফেলেন ডেভিড হানকো। রেফারি পেনাল্টি দেন। স্পটকিক থেকে গোল করেন জিওকেরেস। ইয়ান ওবলাক দিক বুঝলেও বল ঠেকাতে পারেননি। বিরতির আগে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্সেনাল।
বিরতির পর দ্রুতই ধাক্কা খায় আটলেটিকো। চোটের কারণে জুলিয়ানো সিমিওনেকে তুলে নিতে হয়, তার জায়গায় নামেন রবিন লে নরমঁ। তবে এই ধাক্কা সামলে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ ফেরানোর চেষ্টা করে স্বাগতিকরা। সেই সময় আটলেটিকোর খেলায় সবচেয়ে বড় প্রভাব রাখেন আঁতোয়ান গ্রিজমান।
গ্রিজমানের পাস, ছন্দ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আটলেটিকোর আক্রমণে প্রাণ ফেরায়। তিনি বারবার আর্সেনালের বক্সের আশপাশে জায়গা তৈরি করেন। আলভারেজের ফ্রি-কিক অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, লুকম্যানের শট ঠেকান রায়া, আর ফিরতি বলে গ্রিজমানের প্রচেষ্টাও আটকে যায়।
অবশেষে ৫৫ মিনিটে আসে সমতা। মার্কোস ইয়োরেন্তের শট বেন হোয়াইটের হাতে লাগলে ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টি পায় আটলেটিকো। এবার স্পটকিক থেকে জোরালো শটে গোল করেন আলভারেজ। মেট্রোপলিতানো আবার জেগে ওঠে।
সমতার পর কিছু সময় আটলেটিকোই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। গ্রিজমানের শট ক্রসবারে লাগে, লুকম্যান একা পেয়েও রায়ার হাতে বল তুলে দেন। এই সময় জয়ের সুযোগ তৈরি করেছিল সিমিওনের দল।
তবে ম্যাচের শেষ ভাগে আবার চাপ বাড়ায় আর্সেনাল। আর্তেতা বেঞ্চ থেকে বুকায়ো সাকা, লিয়ান্দ্রো ট্রসার্ড ও গ্যাব্রিয়েল জেসুসকে নামান। এরপর এজের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন আলভারেজ, যা আটলেটিকোর জন্য বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়ায়।
শেষ দিকে আরেকবার পেনাল্টির দাবি ওঠে। এজের সঙ্গে হানকোর হালকা সংস্পর্শে রেফারি প্রথমে পেনাল্টির ইঙ্গিত দিলেও ভিএআরের পর সিদ্ধান্ত বদলান। আর্সেনালও শেষ দিকে চাপ ধরে রাখে, তবে আটলেটিকোরও সুযোগ ছিল। লুকম্যান অল্পের জন্য বাইরের দিকে হেড করেন, নাহুয়েল মোলিনার জোরালো শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতায় শেষ হয় প্রথম লেগ। আটলেটিকোর জন্য আক্ষেপ থাকবে, কারণ ঘরের মাঠে জয়ের সুযোগ তৈরি করেও তারা লিড নিতে পারেনি। অন্যদিকে আর্সেনালের জন্য স্বস্তি, মেট্রোপলিতানোর কঠিন পরিবেশ থেকে অন্তত সমতা নিয়ে লন্ডনে ফিরতে পারছে তারা।
তবে দ্বিতীয় লেগের আগে দুই দলের জন্যই দুশ্চিন্তা রয়েছে। আটলেটিকোর আলভারেজ ও জুলিয়ানো চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন। অন্যদিকে আর্সেনালও জানে, ঘরের মাঠে ফিরলেও এই টাই এখনো পুরোপুরি খোলা। লন্ডনেই নির্ধারিত হবে বুদাপেস্টের ফাইনালে কার টিকিট নিশ্চিত হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন