ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বায়ার্নকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে পিএসজি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মে ৭, ২০২৬, ০৪:৪৬ এএম
ছবি : সংগৃহীত

মিউনিখ শহরটা যেন পিএসজির জন্য আলাদা এক স্মৃতির জায়গা হয়ে উঠছে। এক বছরও হয়নি, এই শহরেই ইন্টার মিলানকে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছিল প্যারিস সেন্ট জার্মেই। এবার একই শহরে বায়ার্ন মিউনিখকে থামিয়ে আবারও ফাইনালে উঠল লুইস এনরিকের দল। সামনে এখন শিরোপা ধরে রাখার লড়াই, প্রতিপক্ষ মিকেল আর্তেতার আর্সেনাল।

অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে বায়ার্নের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে পিএসজি। প্রথম লেগে পাওয়া ব্যবধান কাজে লাগিয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ গোলে ফাইনালে উঠেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের শুরুতে ওসমান দেম্বেলের গোল পিএসজির সুবিধা আরও বাড়িয়ে দেয়। যোগ করা সময়ে হ্যারি কেইন বায়ার্নকে সমতায় ফেরালেও সেটি যথেষ্ট ছিল না।

জার্মানিতে ম্যাচ শুরুর তিন মিনিটও পেরোয়নি, ফাবিয়ানের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে বাঁ দিক দিয়ে ছুটে যান কাভারাতস্কেলিয়া। তার নিচু কাটব্যাকে প্রথম স্পর্শেই বল জালে পাঠান দেম্বেলে। ম্যানুয়েল নয়্যারের কিছু করার ছিল না। পিএসজি এগিয়ে যায় ১-০ গোলে, দুই লেগ মিলিয়ে ব্যবধান দাঁড়ায় ৬-৪।

এরপর বায়ার্নকে আরও ঝুঁকি নিতে হয়। মাইকেল ওলিসে শুরু থেকেই পিএসজির বাঁ দিকের রক্ষণে চাপ তৈরি করেন। তার দৌড় ঠেকাতে গিয়ে নুনো মেন্দেস হলুদ কার্ড দেখেন। কিছুক্ষণ পর লুইস দিয়াজের দারুণ কাজের পর ওলিসের সম্ভাব্য সুযোগও শেষ মুহূর্তে আটকে দেন মেন্দেস।

পিএসজির আক্রমণে সবচেয়ে বিপজ্জনক ছিলেন কাভারাতস্কেলিয়া। কখনো কাউন্টার অ্যাটাকে, কখনো বাঁ দিক দিয়ে সরাসরি দৌড়ে বায়ার্ন রক্ষণকে অস্বস্তিতে রেখেছেন জর্জিয়ান উইঙ্গার। উপামেকানো শেষ মুহূর্তে একটি দারুণ হস্তক্ষেপ না করলে প্রথমার্ধেই পিএসজির দ্বিতীয় গোল হয়ে যেতে পারত।

বায়ার্ন অবশ্য চেষ্টার কমতি রাখেনি। ওলিসে নিজের পরিচিত ভঙ্গিতে বাঁ পায়ে ভেতরে কেটে শট নেন, বল অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনা একাধিকবার পেনাল্টির দাবিতেও গর্জে ওঠে। নুনো মেন্দেসের হাতে বল লাগা এবং ভিটিনিয়ার ক্লিয়ারেন্স জোয়াও নেভেসের হাতে লাগার ঘটনায় বায়ার্ন খেলোয়াড়দের জোরালো দাবি ছিল, তবে রেফারি পেনাল্টি দেননি।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে জামাল মুসিয়ালা কিছুটা প্রাণ ফেরান বায়ার্নের আক্রমণে। ওলিসের ব্যাকহিল থেকে পাওয়া বলে তার বাঁ পায়ের শট ঠেকান মাতভেই সাফোনভ। যোগ করা সময়ে জশুয়া কিমিখের ফ্রি-কিক থেকে ফাঁকায় হেডের সুযোগ পান জোনাথন তাহ, কিন্তু সেটিও কাজে লাগাতে পারেননি।

বিরতির পর বায়ার্নের চাপ আরও বাড়ে। প্রেসিং, ডুয়েল, বল দখল—সব জায়গাতেই গতি বাড়ানোর চেষ্টা করে দলটি। কিন্তু পিএসজি তখন চ্যাম্পিয়ন দলের মতোই খেলেছে। অকারণে ঝুঁকি নেয়নি, বল ছেড়ে দিতেও দ্বিধা করেনি, আর সুযোগ পেলেই কাউন্টারে আক্রমণ করেছে।

দেজিরে দুয়ে একাধিকবার নয়্যারকে পরীক্ষা নেন। কাভারাতস্কেলিয়ার নিচু শটও পা দিয়ে ঠেকান জার্মান গোলরক্ষক। দেম্বেলে গোলের পর খুব বেশি সময় মাঠে থাকেননি, তাই তাকে তুলে ব্র্যাডলি বারকোলাকে নামান এনরিকে। অন্যদিকে বায়ার্ন আক্রমণ বাড়াতে আলফনসো ডেভিস, কিম মিন-জে প্রমুখকে নামায়।

শেষ দিকে পিএসজি নিজেদের বক্সের সামনে প্রায় দেয়াল গড়ে তোলে। বায়ার্নের শট বারবার আটকে যায় প্যারিসের ডিফেন্ডারদের শরীরে। ৮৭ মিনিটে কার্ল ও লাইমারের পরপর দুই প্রচেষ্টাও পিএসজি রক্ষণ ভেদ করতে পারেনি।

অবশেষে যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে আলফনসো ডেভিসের সহায়তায় গোল করেন হ্যারি কেইন। অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় তখন নতুন করে উত্তেজনা ফিরে আসে, কিন্তু আরেকটি গোল করার মতো সময় বায়ার্নের হাতে ছিল না।

শেষ বাঁশি বাজতেই আবারও মিউনিখ পিএসজির আনন্দের শহর। গত মৌসুমে যেখানে প্রথমবার ইউরোপ সেরা হয়েছিল তারা, এবার সেখান থেকেই শিরোপা ধরে রাখার পথে শেষ ধাপে উঠল এনরিকের দল।

সামনে আর্সেনাল যারা নিজেদের প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে মরিয়া। আর পিএসজির সামনে সুযোগ, রিয়াল মাদ্রিদের জিদান-যুগের পর প্রথম দল হিসেবে টানা চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের বিরল কীর্তি গড়ার।