মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে দুই ওপেনারকে দ্রুত হারানোর ধাক্কা সামলে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হকের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় টাইগাররা।
গতকাল শুক্রবার (০৮ মে) সকালে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। বাংলাদেশের হয়ে ইনিংস শুরু করতে নামেন মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলাম।
ইনিংসের প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মাহমুদুল হাসান জয়। তবে সেই ধারা তিনি বজায় রাখতে পারেননি। দলীয় ১৮ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৮ রানে শাহীন শাহ আফ্রিদির বলে মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন এই ওপেনার।
জয়ের বিদায়ের কিছুক্ষণ পরই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন আরেক ওপেনার সাদমান ইসলাম। দলীয় ৩১ রানের মাথায় ব্যক্তিগত সংগ্রহ বড় করার আগেই হাসান আলীর বলে ক্যাচ দেন তিনি।
দ্রুত দুই ওপেনারকে হারিয়ে দল যখন বিপর্যয়ে, তখন হাল ধরেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ মুমিনুল হক। তৃতীয় উইকেটে এই দুজনের প্রতিরোধে প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠে বাংলাদেশ।
দাপুটে ব্যাটিংয়ে শান্ত তুলে নেন দৃষ্টিনন্দন এক সেঞ্চুরি এবং মুমিনুল পূর্ণ করেন ফিফটি। তবে শতকের খুব কাছে গিয়েও আক্ষেপ নিয়ে ফেরেন মুমিনুল, ব্যক্তিগত ৯১ রানে সাজঘরে ফেরেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
শান্ত ও মুমিনুলের বিদায়ের পর দলের হাল ধরেন মুশফিকুর রহিম ও লিটন কুমার দাস। দুজনের নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে প্রথম দিনে আর কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। ৪ উইকেটে ৩০১ রান তুলে প্রথম দিন শেষ করে স্বাগতিকরা।
আজ শনিবার (০৯ মে), দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই লিটন দাসের ব্যাটে ভালো কিছুর ইঙ্গিত থাকলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। দলীয় ৩৩৮ রানে লিটন আউট হলে কিছুটা ব্যাটিং ধসের মুখে পড়ে শান্তর দল। ৩৩৮ রানে ৪ উইকেট থেকে মাত্র ৪৬ রান স্কোরবোর্ডে যোগ হতেই হারিয়ে ফেলে আরও ৫ উইকেট ।
লিটনের বিদায়ের আগে প্রথম দিন শেষে ৪৮ রানে অপরাজিত থাকা মুশফিকুর রহিম তুলে নেন ফিফটি। আজ ছিল মুশফিকের জন্মদিন, দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে সেঞ্চুরির দিকেই এগোচ্ছিলেন ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’। তবে ব্যক্তিগত ৭১ রানে শাহীন আফ্রিদির বলে বোল্ড হয়ে থামতে হয় তাকে।
শেষদিকে তাসকিন আহমেদের কার্যকর ব্যাটিংয়ে ভর করে সবকটি উইকেট হারিয়ে ৪১৩ রানের লড়াকু পুঁজি সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।
ব্যাট হাতে বাংলাদেশের হয়ে ১৩০ বলে ১০১ রান করে নাজমুল হোসেন শান্ত, ২০০ বলে ৯১ রান করেন মুমিনুল হক, ১৭৯ বলে ৭১ রান করেন মুশফিকুর রহিম, ৬৭ বলে ৩৩ রান করেন লিটন কুমার দাস, এবং ১৯ বলে ২৮ রান করেন তাসকিন আহমেদ।
বল হাতে পাকিস্তানের হয়ে ৫টি উইকেট তুলে নেন মোহাম্মদ আব্বাস, ৩টি উইকেট নেন শাহিন শাহ আফ্রিদি এবং ১টি করে উইকেট নেন হাসান আলী ও নোমান আলী।

