সিলেট টেস্টের প্রথম সেশনে ব্যাট হাতে প্রত্যাশিত সূচনা পায়নি বাংলাদেশ। টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে লাঞ্চ বিরতিতে ২৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১০১ রান তুলেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অধিনায়ক শান্ত ২৬ ও মুশফিকুর রহিম ১৮ রানে অপরাজিত থেকে বিরতিতে যান।
সকালের মেঘলা আবহাওয়া ও নতুন বলের সহায়তা কাজে লাগিয়ে শুরু থেকেই বাংলাদেশকে চাপে রাখে পাকিস্তানের পেস আক্রমণ। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই আঘাত হানেন মোহাম্মদ আব্বাস। অফ স্টাম্পের বাইরে মুভ করা বলে ব্যাট ছুঁইয়ে স্লিপে ধরা পড়েন মাহমুদুল হাসান জয়। শূন্য রানে ফিরতে হয় বাংলাদেশ ওপেনারকে।
শুরুর ধাক্কা সামাল দিতে অভিষিক্ত তানজিদ হাসান ও মুমিনুল হক কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। নিজের প্রথম টেস্ট ইনিংসেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করেন তানজিদ। কাভার ড্রাইভ, পয়েন্ট ও লেগ সাইডে কয়েকটি চমৎকার শটে সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেন বাঁহাতি এই ওপেনার।
তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। ২৬ রানে আব্বাসের শর্ট অব লেংথ ডেলিভারিতে মিড-অন দিয়ে খেলতে গিয়ে টপ এজ তুলে দেন, আর সহজ ক্যাচ নেন বোলার নিজেই। ৩৪ বলে ৩ চারে সাজানো ইনিংসটি শেষ হয় সেখানেই।
এরপর মুমিনুলও থামেন ২২ রানে। খুররম শাহজাদের দারুণ ইনসুইং ডেলিভারিতে বোল্ড হওয়ার আগে ৪১ বলে ৩টি চার মারেন তিনি। তার বিদায়ে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৬৩/৩।
চাপের মুহূর্তে চতুর্থ উইকেটে দায়িত্ব নেন শান্ত ও মুশফিক। পাকিস্তানি বোলাররা শর্ট বল ও সুইংয়ে কয়েকবার পরীক্ষা নিলেও অভিজ্ঞ এই জুটি আর বিপদ বাড়তে দেয়নি। লাঞ্চ পর্যন্ত দুজন মিলে অবিচ্ছিন্ন ৩৮ রানের জুটি গড়ে দলকে সামলে রাখেন।
পাকিস্তানের হয়ে প্রথম সেশনে সবচেয়ে কার্যকর ছিলেন মোহাম্মদ আব্বাস। ৭ ওভারে ২২ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন তিনি। খুররম শাহজাদ ১টি উইকেট শিকার করেন ৩৪ রানে। অন্যদিকে সাজিদ খান উইকেটশূন্য থাকলেও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চাপ ধরে রাখেন।
সেশনের মাঝে পাকিস্তান শিবিরে উদ্বেগও দেখা দেয়। তানজিদের একটি শট থামাতে গিয়ে হাসান আলী মাথায় আঘাত পান। পরে তাকে স্ট্রেচারে মাঠের বাইরে নেওয়া হয়, আর কনকাশন বদলি নিয়ে পরবর্তী আপডেটের অপেক্ষা তৈরি হয়।
মিরপুরে প্রথম টেস্ট জিতে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ সিলেটে সিরিজ নিশ্চিত করতে বড় প্রথম ইনিংসের লক্ষ্য নিয়ে নেমেছিল। তবে প্রথম সেশনের হিসাব বলছে, শুরুটা নিজেদের করে নিয়েছে পাকিস্তানই।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন