লিওনেল মেসি ও নেইমার জুনিয়র- লাতিন আমেরিকার ফুটবলের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র। প্রথমজনের ক্ষেত্রে তো বটেই, দ্বিতীয়জনের ক্ষেত্রেও এটি হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ। তবে ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য শেষ ‘মহাযুদ্ধে’-নামার আগে দুজনকে ঘিরেই আলোচনা চলছে চোট নিয়ে। অবশ্য বর্তমানে তাদের পরিস্থিতি ভিন্ন। মেসি এরই মধ্যে আর্জেন্টিনা দলের অনুশীলনে ফিরেছেন। অন্যদিকে নেইমার আগামী সপ্তাহে অনুশীলনে ফিরতে পারেন বলে আশা করছে ব্রাজিল, যদিও সেটি নির্ভর করছে তার সর্বশেষ স্ক্যান রিপোর্টের ওপর।
মে মাসের শেষদিকে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলতে গিয়ে মেসির চোট নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) এক ম্যাচে পায়ে অস্বস্তি অনুভব করায় মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। পরে জানা যায়, তিনি কোনো গুরুতর চোটে পড়েননি। মূলত পেশির ক্লান্তিজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন, যা বিশ্রামের মাধ্যমে সেরে ওঠার কথা।
গত সোমবার থেকে কানসাস সিটিতে শুরু হয়েছে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ক্যাম্প। সেখানে যোগ দিলেও শুরুতে দলের সঙ্গে অনুশীলনে অংশ নেননি মেসি। বরং জিমে ব্যক্তিগত ফিটনেস নিয়েই কাজ করেছেন। অবশেষে বৃহস্পতিবার রাতে তিনি সতীর্থদের সঙ্গে বল পায়ে অনুশীলনে ফেরেন। এর আগে হন্ডুরাসের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল। তবে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নামার সম্ভাবনা রয়েছে তার। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসির খেলা নিয়ে আপাতত কোনো শঙ্কা নেই।
তবে শুধু মেসিই নন, চোটের সমস্যা নিয়ে আর্জেন্টিনা শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার। তাদের মধ্যে রয়েছেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, জুলিয়ান আলভারেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, নাহুয়েল মোলিনা, গনসালো মন্টিয়েল, নিকো গনসালেস, থিয়াগো আলমাদা ও নিকো পাজ। তাদের বেশিরভাগই পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষ করে অনুশীলনে ফিরেছেন। তবে কয়েকজন এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন।
বিশেষ করে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের ডান হাতের একটি আঙুল ভেঙে গেছে। এ কারণে তিনি এখনো পূর্ণোদ্যমে অনুশীলনে ফিরতে পারেননি। এমনকি আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচেও তার খেলার সম্ভাবনা নেই।
অন্যদিকে নেইমারের চোট তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুতর। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে তার হ্যামস্ট্রিংয়ে নতুন করে ‘গ্রেড-২ টিয়ার’ ধরা পড়ে। তা সত্ত্বেও ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে বিশ্বকাপ দলে রেখেছেন। নেইমার এরই মধ্যে দলের বেস ক্যাম্পে যোগ দিলেও এখনো কেবল জিমে অনুশীলন করছেন। তিনি এখনো দলের সঙ্গে বা এককভাবে বল নিয়ে অনুশীলন শুরু করেননি।
ব্রাজিল শিবিরের তথ্য অনুযায়ী, পুরোপুরি ফিট হতে নেইমারের আরও প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তবে আনচেলত্তি আশাবাদী, আগামী সপ্তাহেই তিনি মাঠে ফিরতে পারবেন।
নেইমারের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আনচেলত্তি বলেন, ‘নেইমারের পরিস্থিতি খুব একটা জটিল নয়। আপাতত সে একাই অনুশীলন করছে। এই সপ্তাহের শেষে তার চোটের স্ক্যান করা হবে। রিপোর্ট সন্তোষজনক হলে আগামী সপ্তাহে সে দলের সঙ্গে অনুশীলন শুরু করবে।’
তবে মিশরের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে নেইমারের খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। আর বিশ্বকাপে মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচেও তাকে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে এখনো যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন