২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে অর্জিত কোটি কোটি ডলারের কথিত আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) তদন্তের মুখোমুখি হয়েছে। ফরাসি অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোমাঁ মলিনার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের তথ্যের ভিত্তি হিসেবে আর্জেন্টিনার সংবাদপত্র লা নাসিওন-এর প্রকাশিত আর্থিক নথির উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তে এএফএর বিশ্বকাপ-সংক্রান্ত আয় কীভাবে বণ্টন করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, স্পনসরশিপ, সম্প্রচারস্বত্ব এবং টুর্নামেন্ট থেকে প্রাপ্ত প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ইউরো (৩০০ মিলিয়নের বেশি মার্কিন ডলার) আয়ের মধ্যে ৪২ মিলিয়ন ইউরোরও বেশি অর্থ ফ্লোরিডাভিত্তিক কয়েকটি শেল কোম্পানিতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ ছাড়া বৃহত্তর আর্থিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সম্ভাব্য ২৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত অর্থ পাচারের অভিযোগও তদন্তে রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ফুটবল কার্যক্রমের কোনো দৃশ্যমান সম্পর্ক নেই বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের মাত্র নয় দিন আগে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মাধ্যমে এএফএর বিশ্বকাপ আয়ের ৩০ শতাংশ ট্যুরপ্রোডএন্টার এলএলসি (TourProdEnter LLC) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বরাদ্দ করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ফিফা চুক্তিতে উল্লেখিত নির্দেশনা অনুসরণ করে সরাসরি ওই প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করে।
তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, কথিত আত্মসাৎ করা অর্থ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মিয়ামির বিলাসবহুল রিয়েল এস্টেট, ব্যক্তিগত জেট, ইয়ট এবং আর্জেন্টিনার ফুটবলের সঙ্গে সম্পর্কহীন বিভিন্ন বিনিয়োগে ব্যয় করা হয়েছে কি না।
এ পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যগুলো সাংবাদিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে উত্থাপিত অভিযোগ মাত্র। এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়নি এবং কোনো আদালত এ বিষয়ে রায়ও দেয়নি।
এ ছাড়া, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) কিংবা ফিফা—কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত বা অস্বীকার করে কোনো বিবৃতি দেয়নি।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন