দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়ান ইয়ুথ প্যারা গেমস ২০২৫–এ জ্যাভেলিন ইভেন্টে স্বর্ণপদক জিতেছেন বাংলাদেশের চৈতি রাণী দেব। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের প্রান্তিক সম্প্রদায় থেকে উঠে আসা এই প্যারা অ্যাথলেটের সাফল্য বাংলাদেশের প্যারা ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন মাইলফলক যোগ করেছে।
চৈতির জয়ের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো এশিয়ান ইয়ুথ প্যারা গেমসের জ্যাভেলিনে বাংলাদেশের নাম স্বর্ণপদকের তালিকায় উঠে আসে। তার এই অর্জন কেবল ব্যক্তিগত নয়, দেশের প্যারা স্পোর্টস কাঠামোকে নতুন আস্থায় ভরিয়ে দিয়েছে।
সীমিত সুযোগ-সুবিধার এক প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উঠে আসার গল্পটি অনুপ্রেরণাদায়ী। চৈতির অধ্যবসায়, মানসিক শক্তি ও ধারাবাহিক পরিশ্রম তার সাফল্যের ভিত্তি। তার স্বর্ণপদক প্রমাণ করে, প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদেরাও যথাযথ সুযোগ পেলে বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতায় সক্ষম।
ন্যাশনাল প্যারালিম্পিক কমিটি অব বাংলাদেশ (এনপিসি বাংলাদেশ) ২০২৫ জাতীয় যুব প্যারা গেমস চলাকালে কঠোর প্রতিভা অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে চৈতিকে খুঁজে পায়। নির্বাচন শেষে চৈতি এক মাসব্যাপী নিবিড় প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অংশ নেন। অভিজ্ঞ কোচদের তত্ত্বাবধানে দক্ষতা উন্নয়ন, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতিই তাকে এই সাফল্যের পথে এগিয়ে নেয়।
এনপিসি মনে করে, চৈতির অর্জন দেখিয়ে দিয়েছে—প্রতিভাবান প্যারা অ্যাথলেটদের সঠিক সময়ে শনাক্ত করা এবং কাঠামোবদ্ধ প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও অনেক সাফল্য অর্জন সম্ভব।
চৈতির স্বর্ণপদক সরকার ও বেসরকারি খাতের আরও সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট করেছে। প্যারালিম্পিক আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে বাড়তি আর্থিক সহায়তা, সুলভ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্রীড়া কর্মসূচি এবং দীর্ঘমেয়াদি অ্যাথলেট উন্নয়ন পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুবাইয়ে এই স্বর্ণজয় বাংলাদেশের প্যারালিম্পিক যাত্রায় এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। চৈতি শুধু দেশের সম্মানই বাড়াননি, দেশের হাজারো প্রতিবন্ধী তরুণ–তরুণীর সামনে নতুন স্বপ্নের দুয়ারও খুলে দিয়েছেন। তার সাফল্য ভবিষ্যতে আরও প্যারা অ্যাথলেটকে আন্তর্জাতিক সাফল্যের পথে অনুপ্রাণিত করবে বলেই আশা সংশ্লিষ্টদের।

