প্রথমবারের মতো আইএল টি-টোয়েন্টিতে খেলতে নেমেই নিজের জাত চিনিয়েছেন বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ব্যাটারদের জন্য একপ্রকার দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠেছেন তিনি।
টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত আট ম্যাচে মোস্তাফিজ নিয়েছেন ১৫টি উইকেট, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। শুধু পেসারদের মধ্যে তাকেই সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকার করতে দেখা গেছে। আফগান স্পিনার ওয়াকার সালামখিল সর্বোচ্চ ১৭ উইকেট নিলেও তিনি একটি ম্যাচ বেশি খেলেছেন।
শুধু উইকেট নেওয়াই নয়, মোস্তাফিজের বোলিং কার্যকারিতাও চোখে পড়ার মতো। পাওয়ারপ্লে, মাঝের ওভার কিংবা ডেথ ওভার—সব জায়গাতেই সমানভাবে সফল তিনি।
সবশেষ ম্যাচে শারজাহ ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ৪ ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শারজার সেরা ব্যাটার সিকান্দার রাজাকে আউট করে দলের জন্য বড় ভূমিকা রাখেন।
পাওয়ারপ্লের পর ১৪তম ওভারে তাকে আস্থা রেখে বল দেন অধিনায়ক টিম সাউদি। আর সেই আস্থার যথার্থ প্রতিদান দেন মোস্তাফিজ।
এর আগে ২১ ডিসেম্বর গালফ টাইটানসের বিপক্ষে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন তিনি। ওই ম্যাচে ইনিংসের ১৪তম ওভারে টানা তিন ব্যাটার—জেমস ভিন্স, আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও সেন ডিকসনকে আউট করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন মোস্তাফিজ।
৭ ডিসেম্বর মুম্বাই এমিরেটসের বিপক্ষেও একই কীর্তি গড়েন এই বাঁহাতি পেসার। ইনিংসের ১৮তম ওভারে রশিদ খান, টম ব্যান্টন ও আল্লাহ গজনফরকে ফিরিয়ে নেন তিনি। শেষ ওভারে আরও দুটি উইকেট নেওয়ার সুযোগ থাকলেও ফিল্ডিংয়ের দুর্বলতায় তা হয়নি।
এ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে খেলা প্রতিটি ম্যাচেই উইকেট পেয়েছেন মোস্তাফিজ। দুবাই ও আবুধাবির উইকেটে তার কাটার বুঝতে না পেরে নিয়মিত ভুল করছেন ব্যাটাররা। আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছেন তিনি।
দলের অবস্থানও বেশ ভালো। শারজাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে দুবাই ক্যাপিটালস। তবে প্লে-অফে মোস্তাফিজকে নাও পেতে পারে দলটি। কারণ, একই সময়ে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল), যেখানে তিনি খেলবেন রংপুর রাইডার্সের হয়ে।



