ক্রিকেটের মাঠ সাধারণত ভদ্রলোকের খেলা হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এবার সেই ২২ গজে ঢুকে পড়েছে নোংরা রাজনীতি। সীমান্তের রাজনৈতিক উত্তেজনা নয়, এবার ক্রিকেটের ফ্র্যাঞ্চাইজিই রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে।
শাহরুখ খানের কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) দল ডিসেম্বরের নিলামে রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নিয়েছিল বাংলাদেশের ফাস্ট বোলার মুস্তাফিজুর রহমানকে।
তবে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ও কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণে বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই) হঠাৎই কেকেআরকে নির্দেশ দিয়েছে মুস্তাফিজকে দলে রাখার পরিবর্তে বিকল্প খেলোয়াড় বেছে নিতে।
বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানিয়েছেন, সম্প্রতি যে ঘটনা ঘটেছে, তার কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। শুরুতে আমরা অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ নীতি গ্রহণ করেছিলাম; কিন্তু শেষ পর্যন্ত কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না।
মুস্তাফিজকে দলে নেওয়ায় ভারতের কিছু রাজনীতিক ও ধর্মীয় নেতা শাহরুখ খানের কর্মকাণ্ডকে ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যায়িত করেছেন। এই চাপের ফলে মুস্তাফিজের আইপিএল খেলার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
আইসিসি কী বলে?
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) স্পষ্টভাবে বলে, কোনো ক্রিকেটারকে রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক চাপের কারণে খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
আইসিসির কোড অব কন্ডাক্টে উল্লেখ আছে, ‘ক্রিকেটারদের খেলার অধিকার কোনো রাজনৈতিক বা জাতীয়তার কারণে সীমাবদ্ধ করা যাবে না।’
এ ঘটনা প্রমাণ করে. ক্রিকেটও রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। এদিকে, ভারতের এমন আচরণে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে প্রশ্ন জাগে, ভারতের চোখের কাঁটা কি বাংলাদেশ? তা না হলে বিশ্বের অন্য কোনো দেশের ক্রিকেটারদের খেলতে বাধা না দিয়ে বাংলাদেশি খেলোয়াড়কে কেন বাধা দিচ্ছে?
এ বিষয়ে সাবেক ক্রিকেটাররা বলেন, ‘ক্রিকেট মাঠে রাজনীতি বা ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার কোনো প্রভাব থাকা উচিত নয়।’
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সাধারণত বন্ধুত্বপূর্ণ হলেও মুস্তাফিজের আইপিএল খেলা নিয়ে এ পরিস্থিতি একটাই প্রশ্ন তোলে—ভারতের চোখে কি বাংলাদেশই এক ধরনের হিংস্র প্রতিদ্বন্দ্বী, নাকি খেলোয়াড়ই হয়ে পড়ছে কূটনৈতিক খেলার শিকার?

