আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বদলে অন্য ভেন্যুতে বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব দেয়নি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। সোমবার রাতে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য স্পষ্ট করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
বিসিবি জানায়, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল যে চিঠির কথা উল্লেখ করেছেন, সেটি আইসিসির কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং সেটি ছিল আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগের সঙ্গে বিসিবির অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ, যেখানে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিসিবির বিবৃতিতে বলা হয়, এই যোগাযোগকে ভারতের বাইরে ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধের জবাব হিসেবে ধরা ঠিক নয়। আইসিসি এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমে কথা বলেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি জানান, আইসিসির নিরাপত্তা দল একটি চিঠিতে তিনটি বিষয় উল্লেখ করেছে, যা বাংলাদেশের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী
১. মুস্তাফিজুর রহমান দলে থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।
২. বাংলাদেশের সমর্থকরা যদি জাতীয় দলের জার্সি পরে চলাফেরা করেন।
৩. নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, নিরাপত্তা ঝুঁকিও তত বাড়বে।
এ বিষয়গুলো উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন, এসব শর্ত অত্যন্ত অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। তার মতে, কোনো খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়া, সমর্থকদের জার্সি পরা নিষেধ করা কিংবা নির্বাচন পেছানোর ইঙ্গিত দেওয়া ক্রিকেটের চেতনার পরিপন্থি।
তিনি আবারও আইসিসির কাছে বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবি জানান। শ্রীলঙ্কা এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দেশ হওয়ায় সেখানে ম্যাচ আয়োজন সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে বিসিবির ব্যাখ্যার আগেই প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আজাদ মজুমদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, আলোচিত চিঠিটি আসলে ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে একটি আন্তঃবিভাগীয় নোট; আইসিসির কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব নয়।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বিসিবি আইসিসিকে দ্বিতীয় চিঠি পাঠায়, যেখানে ভারতের সফর নিয়ে বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। এর আগে প্রথম চিঠির জবাবে আইসিসি আরও ব্যাখ্যা চাইলে এই দ্বিতীয় চিঠি পাঠানো হয়।



