আসন্ন ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় বাংলাদেশকে ছাড়াই বিশ্বকাপ আয়োজনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি। বাংলাদেশের জায়গায় আসরে সুযোগ করে নিয়েছে স্কটল্যান্ড।
নিরাপত্তাহীনতার কারণে ভারতে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিসিবির দাবি ছিল, বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হোক।
তবে আইসিসি এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দেয়। গত ২১ জানুয়ারি আইসিসি বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আল্টিমেটাম দেয়। সেই সময়সীমা পার হওয়ার পর বিসিবি চূড়ান্তভাবে জানায়, তারা ভারতে গিয়ে খেলবে না।
বাংলাদেশের এমন অনড় থাকা সিদ্ধান্তে গত ২৪ জানুয়ারি এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে আইসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাঞ্জোগ গুপ্ত জানান, বিসিবি তাদের দাবিতে আইসিসির নীতিমালার সঙ্গে সমন্বয় করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে নিয়মানুযায়ী বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে ১৪তম স্থানে থাকা স্কটল্যান্ডকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এদিকে, বাংলাদেশের এমন সংকটময় সময় বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। এমনকি গত ২১ জানুয়ারি আইসিসির সভায় বাংলাদেশের পক্ষে ভোটও দেয় পাকিস্তান।
শুরু থেকেই বাংলাদেশর পক্ষ নিয়ে আইসিসিকে কড়া বার্তাও দেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডে সভাপতি মহসিন নাকভি। তিনি জানান, আইসিসি ভারতের পক্ষে কথা বলছে এবং দ্বিমুখিতার নীতি অনুসরণ করছে।
শুধু এখানেই থেমে থাকেনি পাকিস্তান, তারা বিশ্বকাপ বয়কট করার হুমকি দেয় আইসিসিকে। তবে নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গতকাল ১ ফেব্রুয়ারি রোববার পিসিবি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষে জানা যায় পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যাচ্ছে।
তবে, ভারতের বিপক্ষে যে ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল সেই ম্যাচ বয়কট করবে বাংলাদেশের সমর্থনে, পাকিস্তানের এমন সিদ্ধান্তে ঘুম হারাম হয়ে যায় আইসিসির।
আইসিসি জানায়, এমন সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক ক্রীড়া নীতির পরিপন্থি। পাকিস্তান যদি শেষ পর্যন্ত মাঠে না নামে, তবে কেবল ২ পয়েন্ট হারানোই নয়, বড় ধরনের আর্থিক ও কৌশলগত নিষেধাজ্ঞার মুখেও পড়তে পারে দেশটি। পাশাপাশি তারা আশা প্রকাশ করেছে যে পাকিস্তান খেলবে।
তবে সবচেয়ে মজার বিষয়টি সামনে চলে আসে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফের মন্তব্যের পর! জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রশিদ লতিফ বলেন, ভারত থেকে ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার দাবি মেনে বাংলাদেশ দলকে বিশ্বকাপে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে তবেই পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে খেলতে সম্মত হবে।
পাকিস্তানের এই অবস্থান আসলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) তথাকথিত ‘দ্বিমুখী নীতি’র বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ। তার ভাষায়, পাকিস্তানকে যদি মর্যাদা দেওয়া হয় এবং বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে ফিরিয়ে আনা হয়, তাহলেই কেবল পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে খেলবে।
এদিকে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে সম্প্রচার অধিকার, বিজ্ঞাপন প্রিমিয়াম, স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম মিলিয়ে ম্যাচের মোট বাজারমূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা।
আরও জানা যায়, এই ম্যাচে ১০ সেকেন্ডের একটি বিজ্ঞাপন স্লটের মূল্য থাকে ৪০ লাখ রুপি, যা ভারতের অন্য যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের চেয়েও বেশি। কেবল বিজ্ঞাপন থেকেই প্রায় ৩০০ কোটি রুপি আয় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
এ ছাড়াও ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মাঠে না গড়ালে বড় আকারের ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে আইসিসিকেও। এমন পরিস্থিতি আজ ২ ফেব্রুয়ারি আবারও বৈঠকে বসেছে আইসিসি।
এই বিশাল ক্ষতি থেকে আইসিসিকে বাঁচাতে পারে মাত্র একটা সিদ্ধান্তই! বিসিবির ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি মেনে বাংলাদেশকে আবারও বিশ্বকাপে ফিরিয়ে আনা।
আইসিসি যদি নতুন করে এই সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে পাকিস্তান, এমনতাই জানা যায় পিসিবির অভ্যন্তরীণ সূত্রেও।
পাশাপাশি ভারত ও আইসিসি বিশাল অঙ্কের ক্ষতির হাত থেকে বাঁচবে। এদিকে, আইসিসি যদি বিশাল অঙ্কের ক্ষতির কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে ফিরিয়ে আনে তাহলে মিটে যাবে বিশ্বকাপের সকল সমস্যা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন