বাংলাদেশের ক্রিকেটে একসময় প্রবাদ ছিল—‘মাঠের পারফরম্যান্স যা-ই হোক, বিসিবির চেয়ার নড়বড়ে হয় না।’ কিন্তু সময়ের আবর্তে সেই ধারণা বদলে গেছে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর নাজমুল হাসান পাপনের ‘রিজার্ভ’ করা সিংহাসন টলে যাওয়ার পর থেকেই বিসিবিতে দিক পরিবর্তনের যে হাওয়া লেগেছিল তা এখন ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে যাচ্ছে।
ক্রীড়াঙ্গনের এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতায় আসা বিএনপি জোট কি এবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের লাল ভবনের দিকে নজর দিচ্ছে?
ভেতরের খবর বলছে, শুধু নজর দেওয়াই নয়, বর্তমান বিসিবি পর্ষদের আয়ু আর বেশি দিন নেই। ২০২৬ সালেই আবারও হতে পারে বিসিবি নির্বাচন!
গত ১৫ বছর ধরে বিসিবি ছিল রাজনীতির একটি সমান্তরাল ক্ষেত্র। অভিযোগ ছিল, পাপন বোর্ড প্রধান হওয়ার যোগ্যতা অর্জনের চেয়ে ‘হাসিনার ঘনিষ্ঠ’ হওয়াটাই ছিল সেখানে বড় মাপকাঠি। জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের মুখে পাপন দেশ ছাড়লে বিসিবিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে বলে আশা করা হয়েছিল।
পাপন-পরবর্তী শূন্যতা পূরণে ফারুক আহমেদ ও আমিনুল ইসলাম বুলবুলদের দায়িত্ব দেওয়া হলেও অভিযোগ উঠেছে—অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের হস্তক্ষেপে একটি নির্দিষ্ট বলয় বোর্ড দখল করেছিল।
সূত্র মতে, আওয়ামী আমলের সেই ‘পেছনের দিক দিয়ে’ প্রবেশের সংস্কৃতি ২০২৫-এর বিসিবির নির্বাচনেও ভিন্ন আঙ্গিকে ফিরে এসেছিল। আর সেই প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনকে অজুহাত করেই বর্তমান কমিটিকে হটানোর ছক কষছে একটি মহল।
বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বর্তমান বোর্ডের মেয়াদ ২০২৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গঠনতন্ত্র বরাবরই ক্ষমতার কাছে পরাস্ত হয়েছে।
বিসিবির একজন বর্তমান পদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় এসেই আগের সব প্রক্রিয়াকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করার পুরোনো চর্চায় ফিরে যেতে পারে। ২০২৫-এর নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ফের ভোটের আয়োজন করা হলে বর্তমান কমিটির টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
আইসিসির কড়া নিয়ম থাকলেও বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড কখনোই রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হতে পারেনি। পর্দার আড়াল থেকে ‘খুঁটি নাড়া’র এই সংস্কৃতি ক্রিকেটের স্বাধীন গতিকে বারবার বাধাগ্রস্ত করেছে।


