১৯৯২ সালের কথা, প্রথম পাঁচ ম্যাচে মাত্র ৩ পয়েন্ট। সেমিফাইনালে যেতে হলে পরের তিন ম্যাচেই জয় চাই। এমতাবস্থায় অধিনায়ক ইমরান খান নিজের দলকে আখ্যা দিয়েছিলেন ‘আহত বাঘ’ হিসেবে। বাকিটা ইতিহাস—সেই বাঘ গর্জে উঠেছিল, জিতে নিয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নের ট্রফি।
ক্রিকেট অভিধানে ‘আহত বাঘ’ শব্দযুগল যেন পাকিস্তানের জন্যই তোলা। কিন্তু আজ বিশ্বকাপের বাঁচামরার লড়াইয়ের আগে প্রশ্নটা আর গর্জন নিয়ে নয়, প্রশ্নটা অস্তিত্ব নিয়ে। বর্তমান পাকিস্তান দলকে ‘আহত বাঘ’ না বলে বরং ‘নখদন্ত হারিয়ে ফেলা ঝিমিয়ে পড়া এক বাঘ’ বলাই হয়তো বেশি যৌক্তিক।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) নামিবিয়ার বিপক্ষে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলতে নামছে পাকিস্তান। সমীকরণ একদম পানির মতো পরিষ্কার—ম্যাচ জিতলেই সুপার এইট, হারলেই বিদায়।
ধারে ও ভারে নামিবিয়ার চেয়ে পাকিস্তান যোজন যোজন এগিয়ে। টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের পরিসংখ্যানও তাই বলে। ব্যাটারদের সেরা দশে পাকিস্তানের প্রতিনিধি আছেন, বোলারদের দশেও দুজন। অন্যদিকে নামিবিয়ার সর্বোচ্চ র্যাঙ্কধারী ব্যাটার আছেন ৪৯ নম্বরে, বোলারদের মধ্যে ৭৯ নম্বরে।
এত পার্থক্যের পরও সমর্থক আর সাবেকদের কপালে ভয়ের ভাঁজ। কারণটা দলের চরম ছন্দহীনতা।
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ধুঁকছে পাকিস্তান। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে হারতে হারতে জিতেছে মাত্র ৩ বল হাতে রেখে। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে জয় এলেও পারফরম্যান্স ছিল মলিন।
আর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে ৬১ রানের বড় ব্যবধানে হারের পর দলের আত্মবিশ্বাস এখন তলানিতে। দলের ব্যাটিং হিরো বাবর আজম বা পেস সেনসেশন শাহিন শাহ আফ্রিদি—কেউই নিজের ছায়া হয়ে আছেন।
ভারতের বিপক্ষে হারের পর দলের মনোবল ফিরিয়ে আনতে কঠোর পরিশ্রম করছেন কোচিং স্টাফরা। দলের স্পিনার উসমান তারিক অবশ্য আশাবাদী।
তিনি জানিয়েছেন, ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েই নামিবিয়ার মুখোমুখি হচ্ছেন তারা, ‘এ অবস্থা থেকে আত্মবিশ্বাস ফেরানো কঠিন তখনই, যখন আপনি আগের ম্যাচের ভুলগুলো নিয়ে কাজ না করবেন। আমরা ভুল নিয়ে কাজ করেছি।’


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন