২০২৬ আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় এখন উন্মাদনা তুঙ্গে। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ক্রিকেট ভক্তদের এই উন্মাদনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতে পর্দার আড়ালে কাজ করে যাচ্ছেন একদল চৌকস ‘ডিজিটাল ইনসাইডার’।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) কর্তৃক মনোনীত এই ৮ জন উপস্থাপক তাদের বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে টুর্নামেন্টের না বলা সব গল্প ভক্তদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছেন।
নিচে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেই ৮ ডিজিটাল ইনসাইডার সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো...
১. অ্যান্ড্রু লিওনার্ড: সহযোগী দেশগুলোর কণ্ঠস্বর
আয়ারল্যান্ডের এই ধারাভাষ্যকার ক্রিকেট বিশ্বে ‘অ্যাসোসিয়েট’ বা সহযোগী দেশগুলোর সবচেয়ে বড় ভক্ত হিসেবে পরিচিত। প্রায় ৪০টি দেশে ৫০০-এর বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ কভার করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
রুয়ান্ডার প্রতিকূল পরিবেশ থেকে ওমানের তীব্র গরম—সবখানেই তিনি ছুটে গেছেন ক্রিকেটের গল্প খুঁজতে। তার মতে, ক্রিকেটের সবচেয়ে সুন্দর গল্পগুলো লুকিয়ে থাকে উদীয়মান দেশগুলোর মধ্যেই।
২. সাঞ্জনা গণেশন: আধুনিক সম্প্রচারের পরিচিত মুখ
ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে গ্ল্যামার জগত হয়ে ক্রীড়া সাংবাদিকতায় আসা সাঞ্জনা গণেশন বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় নাম। স্টার স্পোর্টসের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘ম্যাচ পয়েন্ট’ এবং কলকাতা নাইট রাইডার্সের ‘দ্য নাইট ক্লাব’ দিয়ে তিনি পরিচিতি পান।
বর্তমানে তিনি আইসিসি-র ‘দ্য আইসিসি রিভিউ’ অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ভারতীয় তারকা বোলার জাসপ্রিত বুমরাহর স্ত্রী।
৩. গ্রেস হেইডেন: রাজকীয় ঐতিহ্য ও ডিজিটাল দাপট
অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট কিংবদন্তি ম্যাথু হেইডেনের মেয়ে গ্রেস হেইডেন নিজের যোগ্যতায় সম্প্রচার জগতে জায়গা করে নিয়েছেন। ইনস্টাগ্রামে তার সাত লাখেরও বেশি অনুসারী।
এবারের বিশ্বকাপে বাবা-মেয়ে মিলে মজার সব কন্টেন্ট তৈরি করছেন। সম্প্রতি বাবার ব্যাটিং স্টাইল নকল করে একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে।
৪. এরিন হল্যান্ড: সৌন্দর্য জগত থেকে মাইক্রোফোনের লড়াইয়ে
২০১৩ সালের মিস ওয়ার্ল্ড অস্ট্রেলিয়া এরিন হল্যান্ড এখন বিশ্ব ক্রিকেটের অতি পরিচিত মুখ। একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গায়িকা হওয়া সত্ত্বেও তিনি ক্রীড়া উপস্থাপনায় নিজের ক্যারিয়ার গড়েছেন।
তার সাবলীল উপস্থাপনা এবং ক্রিকেটের প্রতি গভীর অনুরাগ তাকে ডিজিটাল ইনসাইডার টিমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য করে তুলেছে।
৫. লরা ম্যাকগোল্ড্রিক: নিউজ রুম থেকে ধারাভাষ্য কক্ষে
নিউজিল্যান্ডের জনপ্রিয় এই উপস্থাপিকা সাংবাদিকতা দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও বর্তমানে ক্রিকেট, রাগবি ও নেটবল কভার করছেন। অভিজ্ঞ কিউই ক্রিকেটার মার্টিন গাপটিলের স্ত্রী লরা খেলোয়াড়দের মানসিক অবস্থা এবং ড্রেসিংরুমের আবহাওয়া খুব কাছ থেকে অনুভব করতে পারেন, যা তার উপস্থাপনায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
৬. নিখিল উত্তমচন্দানী: ডিজিটাল গল্পের কারিগর
স্টার স্পোর্টসের ডিজিটাল কভারেজের অভিজ্ঞ এই মুখটি বর্তমানে আইসিসি-র হয়ে কাজ করছেন। ক্রিকেটারদের মানবিক গল্প এবং মাঠের বাইরের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভক্তদের সামনে তুলে ধরাই তার প্রধান কাজ।
৭. ক্রিস্টাল আর্নল্ড: প্রোটিয়া আভিজাত্যের প্রতিনিধি
দক্ষিণ আফ্রিকার এই উপস্থাপিকা তার পেশাদারিত্ব এবং চার্ম দিয়ে ভক্তদের মন জয় করেছেন। টুর্নামেন্টে দক্ষিণ আফ্রিকান সমর্থকদের আবেগ এবং ক্রিকেটীয় ঐতিহ্যকে বৈশ্বিক দর্শকদের সামনে তুলে ধরছেন তিনি।
৮. সুরভি বৈদ: নেপথ্যের কারিগর
গ্রুপ পর্ব থেকে সুপার এইট—টুর্নামেন্টের প্রতিটা ধাপের চুলচেরা বিশ্লেষণ এবং পর্দার পেছনের প্রস্তুতিগুলো দর্শকদের দেখাচ্ছেন সুরভি বৈদ। আইসিসি-র ডিজিটাল কভারেজে তার প্রিভিউ শোগুলো দর্শকদের দারুণভাবে ম্যাচ বুঝতে সাহায্য করছে।

