বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং ক্লাব সংগঠকদের মধ্যে চলমান দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের জেরে স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে জমজমাট আসর ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ (ডিপিএল)।
দীর্ঘ সাত মাস ধরে চলা এই অচলাবস্থার কারণে ২০২৫-২৬ মৌসুমের লিগ আয়োজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শত শত পেশাদার ক্রিকেটারের জীবন ও জীবিকার ওপর।
শুক্রবার বিসিবির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সব বাধা সত্ত্বেও তারা আগামী মৌসুমের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে। লিগের ফিক্সচার, লজিস্টিকস ও অন্যান্য কার্যক্রম চূড়ান্ত করতে আগামী ৮ এপ্রিল ক্লাব প্রতিনিধিদের সঙ্গে সভায় বসার ঘোষণা দিয়েছে ক্রিকেট কমিটি অফ ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)।
তবে বোর্ডের এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রিমিয়ার লিগের অধিকাংশ ক্লাবই বর্তমান বোর্ডকে 'অবৈধ' দাবি করে এই সভায় অংশ নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিজ্ঞ ক্লাব সংগঠক জানান, ১২টি ক্লাবের মধ্যে বড়জোর তিন থেকে চারটি ক্লাব সিসিডিএম-এর সঙ্গে বসতে রাজি হতে পারে।
এদিকে মাঠের বাইরের এই প্রশাসনিক লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্রিকেটাররা। ডিপিএল বাংলাদেশের লিস্ট-এ ক্রিকেটের শীর্ষ কাঠামো এবং জাতীয় দলের পাইপলাইন হিসেবে বিবেচিত হলেও, দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকায় ক্রিকেটাররা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
ক্রিকেটারদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কোয়াব-এর সভাপতি মিঠুন এই পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ ক্রিকেটারের আয়ের মূল উৎস এই ঢাকা লিগ। খেলা না হওয়ায় তারা এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। ব্যক্তিগত ইগোর লড়াইয়ে ক্রিকেটকে ধ্বংস করা ঠিক হবে না।
বিসিবি অবশ্য তাদের অবস্থানে অনড়। শুক্রবারের বিবৃতিতে বোর্ড জানিয়েছে, দেশের ক্রিকেট কাঠামো সচল রাখতে এবং নতুন প্রতিভা অন্বেষণে ডিপিএল তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সব অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি প্রতিযোগিতামূলক লিগ উপহার দেওয়ার লক্ষ্যেই তারা কাজ করে যাচ্ছে।



