তামিম ইকবাল নামটা দেশ-বিদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত। আক্রমণাত্মক ব্যাটার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও সময়ের বিবর্তনে তিনি হয়ে উঠেছেন দেশের ইতিহাসের সেরা ওপেনার ও সফলতম অধিনায়ক।
ক্রিকেট থেকে অবসরের পর থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল, ‘খান সাহেব’ বিসিবির গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্বে আসবেন। তামিম যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান তখন বিসিবির দায়িত্বে ছিলেন প্রভাবশালী সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যায় এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। তার পথ ধরে নাজমুল হাসান পাপনসহ অনেক প্রভাবশালী মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য আত্মগোপনে চলে যান।
পাপন-পরবর্তী সময়ে বিসিবির শূন্যতা পূরণে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কোটায় ফারুক আহমেদকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে বোর্ড সভায় পরিচালকদের ভোটে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন।
তবে ফারুক আহমেদের মেয়াদ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। দায়িত্ব নেওয়ার আট মাসের মাথায় বিতর্কের মুখে তিনি পদ হারান। ২০২৫ সালের মে মাসে তার স্থলাভিষিক্ত হন দেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল বুলবুল স্বল্প সময়ের জন্য দায়িত্বে এসেছেন, কিন্তু পরে জানা যায় তিনি দীর্ঘ মেয়াদে কাজ করতে আগ্রহী। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর বিসিবির বহুল আলোচিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনে আমিনুল ইসলাম বুলবুল পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হলেও সেই প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই ছিল নানা বিতর্ক। অভিযোগ ওঠে, তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের ব্যক্তিগত প্রভাবে তামিম ইকবালসহ আরও ১৪ জন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছিলেন।
বুলবুলের নেতৃত্বাধীন এই বোর্ড দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সংকটে পড়ে। বিশেষ করে ২০২৬ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বয়কট করার ঘটনা দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি করে।
এ ছাড়াও বুলবুল আহমেদের বোর্ডের পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ক্রিকেটারদের মাঝে ক্ষোভের জন্ম দেয়। তারই প্রেক্ষিতে ক্রিকেটকে বয়কট করতেও দেখা যায় ক্রিকেটারদের।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠন করে। নতুন সরকার আসার পর থেকেই বিসিবির বর্তমান পর্ষদ আতঙ্কে ছিল এবং অনেক পরিচালক পদত্যাগ করতে শুরু করেন।
গত ৮ মার্চ তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ৫০টি ক্লাব গত নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) লিখিত অভিযোগ জমা দেয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ১১ মার্চ এনএসসি একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ৫ এপ্রিল তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়। কমিটির প্রধান, সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান জানান, নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল), আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। একই সাথে বিসিবি পরিচালনার জন্য ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক সফল অধিনায়ক তামিম ইকবাল খান।
তামিম ইকবাল দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই দেশের ক্রীড়াঙ্গনে একটা প্রশ্নই ঘুরফাক খাচ্ছে—সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের হাত ধরেই কি বদলাবে দেশের ক্রিকেট?

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন