দীর্ঘ আইনি লড়াই, পারস্পরিক তিক্ততা এবং প্রশাসনিক অস্থিরতার পর অবশেষে সমঝোতার পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেট। ইউএসএ ক্রিকেট এবং তাদের বাণিজ্যিক অংশীদার আমেরিকান ক্রিকেট এন্টারপ্রাইজ একটি প্রস্তাবিত সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।
এই চুক্তির প্রধান লক্ষ্য হলো আর্থিক সংকটে জর্জরিত ইউএসএ ক্রিকেটকে সচল করা। সমঝোতা অনুযায়ী, মেজর লিগ ক্রিকেটের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এসিই প্রায় ১১ লক্ষ মার্কিন ডলারের একটি তহবিল সরবরাহ করবে।
এই অর্থ ইউএসএ ক্রিকেটকে তাদের দেউলিয়া অবস্থা থেকে উত্তরণ এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করবে। একইসঙ্গে ২০১৯ সালের মূল চুক্তি অনুযায়ী এসিই-কে পুনরায় বোর্ডের বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটে এই সংকটের সূত্রপাত হয় কয়েক বছর আগে। তৎকালীন চেয়ারম্যান বেণু পিসিকি এবং বোর্ড পরিচালক শ্রীনিবাস সালভারের সঙ্গে এসিই-র বাণিজ্যিক চুক্তির শর্তাবলী নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়।
২০১৯ সালে এই বোর্ডই সর্বসম্মতিক্রমে এসিই-র সঙ্গে চুক্তি অনুমোদন করলেও পরে নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছায়। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আইসিসি বারবার সতর্কবার্তা দেওয়ার পর ইউএসএ ক্রিকেটের সদস্যপদ স্থগিত করে।
সংকট আরও ঘনীভূত হয় যখন ইউএসএ ক্রিকেট এসিই-র সঙ্গে চুক্তি বাতিলের চেষ্টা করে। এর বিপরীতে এসিই আইনি পদক্ষেপ নিলে ২০২৫ সালের অক্টোবরে নাটকীয়ভাবে ইউএসএ ক্রিকেট দেউলিয়া সুরক্ষার জন্য আবেদন করে।
২০২৬ সালের শুরুতে আদালত একটি বিশেষ নির্দেশনার মাধ্যমে ইউএসএ ক্রিকেটের তৎকালীন নেতৃত্বকে অপসারণ করে এবং একজন ট্রাস্টি নিয়োগ করে। এই পরিবর্তনের ফলে সমঝোতার প্রক্রিয়া গতি পায়। বর্তমান চুক্তিটি কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে নয়, বরং আদালতের নিযুক্ত প্রতিনিধির অধীনে সংস্থার অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে সম্পন্ন হয়েছে।

