ঘরের মাঠের চেনা গ্যালারিও যেন এখন দিল্লি ক্যাপিটালসের জন্য এক গোলকধাঁধা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে নিজেদের আঙিনায় পরপর দুই হারে আইপিএলের প্লে-অফ দৌড়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে দলটি।
গত সপ্তাহে আরসিবির বিপক্ষে মাত্র ৭৫ রানে অলআউট হওয়ার ক্ষত এখনো শুকায়নি। তার মধ্যেই মঙ্গলবার সিএসকের বিপক্ষে মন্থর উইকেটে ফের ব্যাটিং ধসের মুখে পড়ে দিল্লি। ১১ ওভারের মধ্যে মাত্র ৬৯ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে যখন ধুঁকছিল দল, তখন থেকেই ম্যাচ কার্যত তাদের হাত থেকে ছিটকে যায়।
পাওয়ার-প্লে-তে দিল্লির ব্যাটিং পরিসংখ্যান এখন টুর্নামেন্টের ১০টি দলের মধ্যে সর্বনিম্ন। চলতি আসরে পাওয়ার-প্লে চলাকালে তারা হারিয়েছে রেকর্ড ২১টি উইকেট এবং তাদের ডট বলের হার প্রায় ৪৬.৪ শতাংশ।
দিল্লির এই ধারাবাহিক ব্যাটিং ব্যর্থতার প্রভাব পড়ছে তাদের কৌশলগত পরিকল্পনায়। আইপিএলের ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ নিয়মটি সাধারণত দলগুলো বাড়তি সুবিধা নিতে ব্যবহার করে, কিন্তু দিল্লির ক্ষেত্রে এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে স্রেফ টিকে থাকার লড়াই।
টপ-অর্ডারের ব্যর্থতা ঢাকতে প্রতি ম্যাচেই আগেভাগে বাড়তি ব্যাটার নামাতে হচ্ছে তাদের। ফলে বোলিং আক্রমণের ধার বাড়ানোর জন্য ইমপ্যাক্ট সাব ব্যবহারের কোনো সুযোগ থাকছে না।
গতকাল সিএসকে ম্যাচে সমীর রিজভিকে ব্যাটিং রক্ষায় নামাতে গিয়ে দিল্লিকে তাদের মূল স্পিনার বিপরাজ নিগমকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখতে হয়েছে, যা পরে বোলিংয়ের সময় বড় ঘাটতি হিসেবে দেখা দেয়।
দলের ভারসাম্য নিয়ে দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়েছে বিদেশি খেলোয়াড়দের নির্বাচন। শুরুতে পাথুম নিসাঙ্কা, ডেভিড মিলার এবং ট্রিস্টান স্টাবসকে দিয়ে ব্যাটিং লাইনআপ সাজালেও ভারতীয় পেসারদের ব্যর্থতায় সেই পরিকল্পনায় বদল আনতে হয়েছে।
বিদেশি বোলারের কোটা পূরণ করতে গিয়ে অভিজ্ঞ ডেভিড মিলারকে একাদশের বাইরে রাখতে বাধ্য হচ্ছে ম্যানেজমেন্ট। এতে করে মিডল অর্ডারে অভিজ্ঞতার অভাব আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।
এদিকে অধিনায়ক অক্ষয় প্যাটেল নিজেও তিন সপ্তাহ ধরে ব্যাটিংয়ে বড় কোনো অবদান রাখতে পারছেন না, যা দিল্লির সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
দলের এই শোচনীয় অবস্থায় কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রধান কোচ হেমাং বদানি। ম্যাচ শেষে তিনি কোনো অজুহাত না দিয়ে সরাসরি জানান, ড্রেসিংরুমে এখন সবার জন্য বার্তা পরিষ্কার— ‘হয় পারফর্ম করো, নয়তো বিদায় নাও’।
১০ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে দিল্লি এখন খাদের কিনারায়। হাতে থাকা বাকি ম্যাচগুলোতে হারলেই বিদায় নিশ্চিত।



