ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

পাকিস্তান বধের ছক আঁকছে শান্ত-তাসকিনরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ৭, ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। ছবি : সংগৃহীত

সাদা পোশাকে বাংলাদেশ যখন সর্বশেষ মাঠে নেমেছিল, তখন দেশজুড়ে বইছিল উৎসবের আমেজ। মুশফিকুর রহিমের ১০০তম টেস্ট খেলার মাইলফলক আর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দাপুটে সিরিজ জয়—সব মিলিয়ে দেশের ক্রিকেট ছিল স্বস্তির চূড়ায়। 

কিন্তু গত নভেম্বর থেকে আজ পর্যন্ত সময়টা যেন এক দীর্ঘ পথচলা। খেলোয়াড়দের বয়কট, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়া আর বিসিবি প্রশাসনে বড় পরিবর্তনের পর আবারও থিতু হয়েছে দেশের ক্রিকেট। দীর্ঘ ছয় মাসের বিরতি কাটিয়ে এবার নিজেদের চেনা মাঠে পাকিস্তানের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে টাইগাররা।

২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে সেই ঐতিহাসিক সিরিজ জয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। সেই স্মৃতিই এখন নাজমুল হোসেন শান্তর দলের প্রধান টনিক। যদিও মাঝের সময়টা পরাজয়ের বৃত্তে কাটছিল, তবে সম্প্রতি পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে জয় দলের হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছে। টেস্ট ক্রিকেটে ফেরার আগে এই জয়গুলোই শান্ত-তাসকিনদের মনে জোগাচ্ছে বাড়তি সাহস।

পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানান, ২০২৪ সালের সেই অভাবনীয় জয়ের পেছনে খেলোয়াড়দের নিবিড় অনুশীলন সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল। এবারও প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি রাখেনি বিসিবি। 

বিশেষ করে যারা সাদা বলের ফরম্যাটে ছিলেন না, তারা দীর্ঘ সময় ধরে লাল বলে ঘাম ঝরিয়েছেন। রাওয়ালপিন্ডিতে ২৬ রানে ৬ উইকেট হারানোর পরও ঘুরে দাঁড়ানোর সেই মানসিকতা এবার ঢাকার মাঠেও দেখাতে চায় বাংলাদেশ।

এবারের সিরিজে বাংলাদেশের তুরুপের তাস হতে যাচ্ছে পেস বোলিং ইউনিট। এক সময় স্পিননির্ভর দল হিসেবে পরিচিত থাকলেও তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, এবাদত হোসেন ও নাহিদ রানাদের নিয়ে গড়া বর্তমান পেস আক্রমণ যেকোনো শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। 

প্রায় দেড় বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে ফিরছেন তাসকিন আহমেদ। নিজের ছন্দ ও দলের পেসারদের উন্নতি নিয়ে বেশ আশাবাদী এই অভিজ্ঞ পেসার। 

সাদা পোশাকে ফেরা নিয়ে টাইগার স্পিডস্টার তাসকিন বলেন, পেসারদের মধ্যে গড়ে ওঠা পারস্পরিক বোঝাপড়া ও মাঠে কার্যকর পার্টনারশিপই হবে সাফল্যের চাবিকাঠি।

দলের ব্যাটিং বিভাগকেও ঢেলে সাজানো হয়েছে। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও মোমিনুল হকের সঙ্গে ফর্মে থাকা তরুণদের সমন্বয় করা হয়েছে। নির্বাচকরা আস্থা রেখেছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের বন্যা বওয়ানো অমিত হাসানের ওপর। 

এ ছাড়া সাদা বলের ক্রিকেটে দারুণ ফর্মে থাকা তানজিদ হাসান তামিমকেও রাখা হয়েছে স্কোয়াডে। অধিনায়ক শান্ত নিজে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরি করে নিজের ফর্মের জানান দিয়েছেন, যা দলের জন্য বড় স্বস্তির খবর।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের বিপক্ষে গত সিরিজে যিনি একাই গড়ে দিয়েছিলেন পার্থক্য, সেই মেহেদী হাসান মিরাজের ওপর আবারও থাকবে বাড়তি নজর।