ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) মানেই বিনোদনের আড়ালে বিশাল সব জুয়া আর রহস্যের সমীকরণ—এমন বিতর্ক পুরোনো। তবে চলতি আসরের ৫১তম ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালস ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের লড়াইয়ে যা ঘটল, তাকে স্রেফ ‘ক্রিকেটীয় ব্যর্থতা’ বলা যায় না!
মাঠের পারফরম্যান্সকে ছাপিয়ে এখন আলোচনার তুঙ্গে দিল্লি অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেলের অবিশ্বাস্য মন্থর ব্যাটিং। যে উইকেটে রানের ফোয়ারা ছুটেছে, সেখানে অক্ষরের ‘টেস্ট স্টাইল’ ব্যাটিং এখন প্রশ্নের মুখে।
টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দিল্লি ক্যাপিটালস যখন শুরুটা রাজকীয় ঢঙে করল, তখন কারোরই ভাবনায় ছিল না সামনে কোনো নাটক অপেক্ষা করছে। ৪.৫ ওভারে স্কোরবোর্ডে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪৯ রান—এমন সূচনার পর ২০০ পার করা ছিল কেবল সময়ের ব্যাপার।
কিন্তু এরপরই রহস্যময় ধস। ক্রিজে এসে খোদ অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেল যা করলেন, তা আধুনিক টি-টোয়েন্টি তো বটেই, টেস্ট ক্রিকেটের গতির চেয়েও মন্থর। ২২ বল মোকাবেলা করে এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার করেছেন মাত্র ১১ রান! এদিন তার স্ট্রাইক রেট ছিল মাত্র ৫০।
অক্ষরের এই ইনিংসকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে তার সঙ্গী আশুতোষ শর্মার ব্যাটিং। একই উইকেটে একই বোলারদের বিপক্ষে যখন আশুতোষ ২৮ বলে ৩৯ রান (স্ট্রাইক রেট ১৩৯+) তুলছিলেন এবং ৩টি ছক্কা ও ৩টি চার মারছিলেন, তখন অক্ষর যেন বল ব্যাটে লাগাতেও ভুলে গিয়েছিলেন।
একই পিচে একজন ব্যাটার স্বচ্ছন্দে খেললেও অভিজ্ঞ এক জাতীয় দলের ক্রিকেটারের এমন অসহায় আত্মসমর্পণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফিক্সিংয়ের গুঞ্জনকে আরও উসকে দিয়েছে।
দিল্লির ছুঁড়ে দেওয়া মাত্র ১৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কলকাতা নাইট রাইডার্স প্রমাণ করে দিয়েছে উইকেট ছিল ব্যাটিং স্বর্গ। কলকাতার ওপেনার ফিন অ্যালেন মাত্র ৪৭ বলে ১০টি বিশাল ছক্কা ও ৫টি চারে এক বিধ্বংসী সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দিল্লির ‘বাজে পিচ’-এর অজুহাতকে ভুল বানিয়ে দিলেন।
তার ব্যাটে চড়ে মাত্র ১৪.২ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় কলকাতা। ফিন অ্যালেনের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল, দিল্লির পুঁজিটা যদি ২৩০-ও হতো, তবুও তা নিরাপদ ছিল না।
ম্যাচ শেষ হতে না হতেই ক্রিকেট ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিল্লির এই হারকে ‘সাজানো’ বলে দাবি করছেন। প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে প্রতি ওভারে ২-৩টি করে বাউন্ডারি হচ্ছে, সেখানে একজন পাওয়ার হিটার হয়েও অক্ষর প্যাটেল কীভাবে টানা ২২ বল খেলে বাউন্ডারিহীন থাকলেন?
কিছু সূত্র বলছে, অক্ষর প্যাটেলের এমন ব্যাটিংয়ের পেছনে ফিক্সিংও হতে পারে।

