× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম

আমেরিকায় নাও হতে পারে ফুটবল বিশ্বকাপ

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম

ফুটবল বিশ্বকাপ। ছবি : সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বকাপ। ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্বে থাকা যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সাবেক ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটার প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন, বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র আদৌ বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য উপযুক্ত কি না। তিনি ভক্তদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশটির সামাজিক পরিবেশ ‘ভক্তদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক নয়’।

ব্লাটারের উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগ ঘিরে সহিংসতা ও নাগরিক অস্থিরতা। মিনেসোটায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্টদের গুলিতে মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা, আইসিই অভিযানে হাজারো গ্রেপ্তার এবং এর জেরে ব্যাপক বিক্ষোভ—সব মিলিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে একটি গভীরভাবে বিভক্ত সমাজ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সমালোচকদের মতে, এসব ঘটনা নাগরিক স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে।

২০২৬ বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজন হলেও মূল দায়িত্ব থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর। ১০৪ ম্যাচের মধ্যে ৭৮টি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি শহরে, যার মধ্যে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচও অন্তর্ভুক্ত। ফলে যেকোনো রাজনৈতিক অস্থিরতা বা নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রভাব পুরো টুর্নামেন্টের ওপর পড়তে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে ফিফার অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্থাটি খেলাধুলা ও রাজনীতিকে আলাদা রাখার নীতির কথা বললেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন, সমতা ও অন্তর্ভুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়ে তারা নিজেরাই রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, যখন ফিফা এসব মূল্যবোধকে নিজেদের নীতির অংশ বানিয়েছে, তখন মানবাধিকার নিয়ে বিতর্কিত বাস্তবতাসম্পন্ন দেশে বিশ্বকাপ আয়োজন করা নৈতিকভাবে অসংগত।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনোর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। ট্রাম্পকে ফিফার অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মান দেওয়াকে অনেকেই রাজনৈতিক পক্ষপাত হিসেবে দেখছেন। এতে ফিফার নিরপেক্ষতা এবং নৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মত বিশ্লেষকদের।

বিশ্বকাপ চলাকালীন বড় ধরনের বিক্ষোভ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া কিংবা মানবাধিকার ইস্যুতে মাঠে ও মাঠের বাইরে প্রতিবাদের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে ফুটবলের সবচেয়ে বড় উৎসব উদযাপনের বদলে রাজনৈতিক অস্থিরতার মঞ্চে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ আয়োজনের পক্ষে যুক্তি হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। দেশটির অবকাঠামো, স্টেডিয়াম, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আর্থিক সক্ষমতা অতুলনীয়। স্বল্প সময়ের মধ্যে বিকল্প আয়োজক খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। এ ছাড়া, অনেকের মতে ফুটবলের বৈশ্বিক আবেদন রাজনীতির ঊর্ধ্বে এবং কোটি কোটি দর্শক মাঠের বাইরের বিতর্ক উপেক্ষা করেই খেলাটি উপভোগ করবে।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে ফিফা এক জটিল দ্বিধার মুখে দাঁড়িয়ে আছে। বিশ্বকাপ যে অনুষ্ঠিত হবে, তা প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, এই বিশ্বকাপ কি ফুটবলের ঐক্য ও উদযাপনের প্রতীক হবে, নাকি তা বিশ্ব রাজনীতির গভীর বিভাজনকে আরও দৃশ্যমান করে তুলবে?

Link copied!