ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বিশ্বকাপ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মার্চ ১২, ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে আমেরিকায় আনন্দ উল্লাসের কথা থাকলেও, বর্তমানে সেখানে বিরাজ করছে চরম অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ওয়াশিংটনের প্রশাসনিক ধীরগতি ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিতর্কিত অবস্থান নিয়ে গুরুতর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসওম্যান নেলি পু।

তার মতে, সঠিক সময়ে ব্যবস্থা না নিলে এই বিশ্ব আসর আমেরিকার জন্য এক ‘আন্তর্জাতিক লজ্জার’ কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিশ্বকাপের ১১টি আয়োজক শহরের নিরাপত্তা ও লজিস্টিক সহায়তার জন্য মার্কিন কংগ্রেস ৬২৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিলেও খেলা শুরুর মাত্র ৩ মাস বাকি থাকতেও কোনো শহর এখন পর্যন্ত এক ডলারও পায়নি।

মিয়ামির আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তহবিল না পেলে কয়েক লাখ মানুষের সমাগম হতে যাওয়া ‘ফ্যান ফেস্ট’ বাতিল করতে হবে তাদের।

অন্যদিকে, কানসাস সিটি এবং ফক্সবরোর মতো শহরগুলোও তাদের নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং স্টেডিয়ামের লাইসেন্স নিয়ে আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়েছে।

বিশ্বকাপের নিরাপত্তার নামে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা ‘আইসিই’-এর কঠোর নজরদারি নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। কংগ্রেসের শুনানিতে আইসিই পরিচালক টড লায়ন্স সরাসরি ঘোষণা দিয়েছেন যে, স্টেডিয়াম ও এর আশপাশে তাদের উপস্থিতি থাকবে এবং তারা কোনো ধরনের এনফোর্সমেন্ট বা অভিযান বন্ধের নিশ্চয়তা দেবেন না।

এই ঘোষণা অভিবাসী কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এমনকি বৈধ নথিপত্র থাকা অনেক প্রবাসীও এখন স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখার সাহস পাচ্ছেন না।

ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের এমন অনমনীয় অবস্থানের কারণে বিশ্বের ৯৩টি নাগরিক অধিকার সংগঠন ইতিমধ্যে ফিফাকে উদ্বেগ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে।

অন্তত এক ডজন দেশ তাদের নাগরিকদের জন্য আমেরিকায় ভ্রমণের সতর্কতা জারি করেছে। নেলি পু সতর্ক করেছেন যে, নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সি অঞ্চল থেকে যে ৩.৩ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আশা করা হচ্ছে, ভক্তরা যদি আতঙ্কে ঘরে বসে থাকেন, তবে সেই বিশাল রাজস্ব হাতছাড়া হবে।

তহবিল সংকটের পাশাপাশি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে ফেমার (এফইএমএ) মাধ্যমে অর্থ ছাড়ের দাবি জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া প্রশাসনকে স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে যে, খেলা দেখতে আসা ফুটবলপ্রেমীরা কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হবেন না। কংগ্রেসওম্যান নেলি পু বলেন, আমাদের সামনে সুযোগ ছিল বিশ্বকে আমেরিকার সেরা রূপ দেখানোর, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই সুযোগকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।