ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের বরপুত্র নেইমার জুনিয়রের জন্য ২০২৬ বিশ্বকাপ কি হতে যাচ্ছে রাজকীয় বিদায়ের মঞ্চ, নাকি এটি কেবলই এক রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া? উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠেয় ৪৮ দলের বর্ধিত আসরের আগে নেইমারের সেলেসাও দলে ফেরা এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সেলেসাওদের বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তি নেইমারকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, দলে জায়গা পাওয়াটা মোটেও নিশ্চিত নয়। আনচেলত্তি নেইমারের ফেরার পথ একেবারে বন্ধ না করলেও তার কণ্ঠে ছিল পেশাদারিত্বের কঠিন সুর।
সম্প্রতি ফরাসি সংবাদমাধ্যম ল’ইকুইপ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নেইমার ফিরে আসতে সক্ষম। তবে আমি কেবল সেই খেলোয়াড়দেরই ডাকব যারা শারীরিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত।
২০২৩ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে গুরুতর চোট পাওয়ার পর থেকেই জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন এই পোস্টার বয়। এসিএল ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা, হাঁটুতে অস্ত্রোপচার এবং পুনরায় সান্তোসে ফেরার পর নেইমারের সময়টা কাটছে চোট আর ফিটনেস পুনরুদ্ধারের এক গোলকধাঁধায়। মাঝে মাঝে মাঠে ঝলক দেখালেও ফর্মের ধারাবাহিকতা এখন তার সবচেয়ে বড় শত্রু।
তবে ইতিহাস কথা বলছে নেইমারের পক্ষেই। ১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল করে তিনি ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। আনচেলত্তি নিজেও নেইমারের গুরুত্বের কথা স্বীকার করে জানান, নেইমার ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ইতিহাসের অংশ এবং মানুষ বিশ্বাস করে সে দলকে বিশ্বকাপ জেতাতে সাহায্য করতে পারবে। তবে কোচের দর্শনে কেবল আবেগ দিয়ে বিশ্বকাপ জেতা সম্ভব নয়।
নেইমারের সামনে এখন সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই। আনচেলত্তি জানিয়েছেন, সিবিএফ এবং তিনি নিজে নেইমারকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আগামী দুই মাস হবে নেইমারের ভাগ্য নির্ধারণী সময়। এই সময়ের মধ্যেই তাকে প্রমাণ করতে হবে যে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে খেলার মতো শারীরিক সক্ষমতা তার এখনও আছে।
আগামী মে মাসে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করবে ব্রাজিল। তার আগে পানামা ও মিশরের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ হতে পারে নেইমারের জন্য নিজেকে প্রমাণের শেষ সুযোগ।


