ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বিশ্বকাপে অংশ নিবে ইরান, তবে জুড়ে দিল ১০ শর্ত

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মে ১০, ২০২৬, ০৯:১০ এএম
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির অস্থিরতা আর কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিল ইরান। 

শনিবার (০৯ মে) ইরান ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, তাদের পুরুষ জাতীয় দল আসন্ন গ্রীষ্মকালীন এই বিশ্ব আসরে মাঠে নামবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে খেলার বিপরীতে আয়োজক দেশগুলোর কাছে বেশ কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে তেহরান।

বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই অনিশ্চয়তার মেঘ ঘনীভূত হচ্ছিল। বিশেষ করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে এই শঙ্কা আরও বাড়ে। 

এরই মধ্যে গত মাসে ফিফা কংগ্রেসের আগে ইরানের ফুটবল প্রধানকে কানাডায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তার ভিসা প্রত্যাখ্যান করে কানাডা সরকার, যা দুই দেশের ফুটবলীয় ও রাজনৈতিক সম্পর্কে ফাটল ধরায়।

ফেডারেশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা অবশ্যই ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেব, কিন্তু আয়োজকদের অবশ্যই আমাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে। আমাদের বিশ্বাস, সংস্কৃতি এবং আদর্শের কোনো আপস না করেই আমরা এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করতে চাই। 

গত শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ফেডারেশন সভাপতি মেহেদি তাজ জানান, বিশ্বকাপে সম্মানজনক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে তারা ১০টি শর্তের একটি তালিকা দিয়েছেন।

ইরানের দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের ভিসার নিশ্চয়তা এবং জাতীয় পতাকা ও সঙ্গীতের পূর্ণ মর্যাদা রক্ষা করা। বিশেষ করে আইআরজিসি-তে বাধ্যতামূলক সামরিক দায়িত্ব পালন করা মেহেদি তারেমি ও এহসান হাজসাফির মতো তারকা ফুটবলাররা যাতে কোনো আইনি বা ভিসা জটিলতায় না পড়েন, সেই নিশ্চয়তা চেয়েছে ইরান। 

এ ছাড়া বিমানবন্দর থেকে শুরু করে হোটেল এবং স্টেডিয়াম পর্যন্ত খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদানের দাবিও জানানো হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অবশ্য আশ্বাস দিয়েছেন যে ইরানি ফুটবলারদের যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানানো হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আইআরজিসি-র সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকা কর্মকর্তাদের প্রবেশের ক্ষেত্রে আগের মতোই কড়াকড়ি থাকতে পারে। 

এদিকে ফিফা প্রধান জিয়ানি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, সূচি অনুযায়ী ইরানি দল তাদের ম্যাচগুলো খেলবে এবং তাদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।