ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

লামিন ইয়ামালের নামের পেছনে যে হৃদয়ছোঁয়া গল্প

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২৬, ০১:৩৮ এএম
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে স্পেনের জার্সিতে মাঠে নামার অপেক্ষায় তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত এই ফুটবলারের নামের পেছনে লুকিয়ে আছে এক আবেগঘন ও কৃতজ্ঞতার গল্প।

স্প্যানিশ রীতি অনুযায়ী, ইয়ামালের পূর্ণ নাম লামিনে ইয়ামাল নাসরাউই এবানা। তার বাবা মুনির নাসরাউই মরক্কোর এবং মা শিলা এবানা নিরক্ষীয় গিনির বংশোদ্ভূত। আরবি ভাষায় ‘লামিনে’ অর্থ বিশ্বাসযোগ্য বা সৎ এবং ‘ইয়ামাল’ অর্থ সৌন্দর্য। তবে এই নাম শুধু অর্থের কারণে রাখা হয়নি।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইয়ামালের জন্মের সময় তার মায়ের বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। অর্থনৈতিক সংকটে থাকা এই তরুণ দম্পতির পাশে দাঁড়িয়েছিলেন দুই পারিবারিক বন্ধু, যাদের নাম ছিল লামিনে ও ইয়ামাল। তাদের নিঃস্বার্থ সহায়তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই সন্তানের নাম রাখা হয় এই দুই ব্যক্তির নামে।

অভাবের মধ্যেই বেড়ে ওঠা ইয়ামাল মাত্র ১২ বছর বয়সে বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে যোগ দেন। এরপর দ্রুতই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন ইউরোপের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল ফুটবলার হিসেবে। বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা এবং স্পেনের হয়ে ২০২৪ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে তারকা খ্যাতি অর্জন করেছেন তিনি।

তবে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও নিজের শৈশবের সংগ্রাম ভুলে যাননি ইয়ামাল। চলতি মাসে স্প্যানিশ রেডিও কাদেনা সারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তার বাবা-মা চরম দারিদ্র্যের মধ্যে তাকে বড় করেছেন এবং সেই অভিজ্ঞতাই তাকে জীবনের প্রকৃত চাপ কী, তা শিখিয়েছে।

নিজের শৈশবের স্মৃতি ধরে রাখতে গোল করার পর তিনি প্রায়ই নিজের বেড়ে ওঠার এলাকা রোকোফন্ডার পোস্টকোডের শেষ তিন সংখ্যা ‘৩০৪’ দেখিয়ে উদযাপন করেন। তবে যাদের নামে তার নাম রাখা হয়েছিল, সেই দুই উপকারীর পরিচয় আজও প্রকাশ করেনি ইয়ামালের পরিবার।